ন্যাশনালডেস্ক,মাগুরানিউজ.কম:
যশোর-খুলনা মহাসড়ককে ‘যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গলার কাঁটা’ উল্লেখ করে এর দায়িত্ব নিজেই নিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এর আগে সকালে ঈদের আগে যথাসময়ে এ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীকে শোকজ করেছেন মন্ত্রী। একইসঙ্গে আগামী তিনদিনের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য যশোর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দারের সঙ্গে কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি খান ও সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন।
বুধবার দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পরিদর্শনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
পরিদর্শনকালে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬৬ কিলোমিটার যশোর-খুলনা মহাসড়কের মাত্র তিন কিলোমিটার ভাঙাচোরা। এর দেড় কিলোমিটার সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দেড় কিলোমিটারের অবস্থা এখনও খারাপ।
মন্ত্রী এ মহাসড়ক সাতবার পরিদর্শন করেছেন উল্লেখ করে জানান, যশোর-খুলনা মহাসড়ক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাঁটা সরাতে তিনি অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ইতোপূর্বে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার ঠিকমত কাজের সুযোগ পায়নি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই মহাসড়কের নওয়াপাড়া বাজার, ভাঙ্গাগেট, চেঙ্গুটিয়া, পদ্মবিলা এলাকা ও শহরের মধ্যে ২শ’ মিটারের অবস্থা খারাপ। মোট এই দেড় কিলোমিটার সড়কের জন্য মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আগামী তিনদিনের মধ্যেই এসব এলাকায় ভাল মানের ইট, বালি, খোয়া দিয়ে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী মহাসড়কটির দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে বলেন, ঈদের পর দু’সপ্তাহের মধ্যে তিনি আবার যশোরে এসে এই মহাসড়কের সমস্যা সমাধানে মিটিং করবেন। বতর্মান ঠিকাদারও যথাসময়ে সংস্কার কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে তারও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই সেতু নির্মাণ হলে যশোর-খুলনা মহাসড়কের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে সড়কটির পরিধি বিস্তৃত করে নতুন করে নির্মাণের বিষয়টি ভাবছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, সড়কের এই অবস্থার জন্য মানুষ যে আমার সামনে বিক্ষোভ দেখায়নি এটা আমার সৌভাগ্য। তারা ধৈর্য্য নিয়ে সড়কের অবস্থার কথা, তাদের কষ্টের কথা আমাকে জানিয়েছে।
নওয়াপাড়ায় আকিজ জুট মিলের সামনে সড়কের জমি অবৈধভাবে দখল ও অবৈধভাবে স্পিডব্রেকার নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঈদের পর তিনদিনের মধ্যে এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে সওজ’র তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলী ফকির আব্দুর রব, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, যশোর সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার, কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি খান, সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

