রাজীব মিত্র, মাগুরানিউজ.কমঃ
বর্ষা জানান দিয়েছে নিজেকে। গরমের দাপটকে দমাতে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে বর্ষা। বৃষ্টিতো ক’দিন ধরেই হচ্ছে। নদীতে পানি বাড়ছেই। আকাশেও মেঘের ঘনঘটা। ঝুম ঝুম বৃষ্টি ঝরছে বর্ষার আগাম সংকেত হয়ে।
এসো নীপবনে ছায়াবীথিতলে, এসো করো স্নান নবধারাজলে…। আজ পয়লা আষাঢ়। রূপময় ঋতু বর্ষার প্রথম দিন। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী বর্ষা ঋতুর শুরুটা হবে আজ। আনুষ্ঠানিক ঋতু বর্ষার শুরু। বর্ষাকাল চলবে শ্রাবণের শেষ দিনটি পর্যন্ত। বাংলায় আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষা ঋতু।
চিরকালই আষাঢ সাজে নানা রুপে। বৃষ্টিরধারায় নবতর জীবন আসে পুষ্প-বৃক্ষে, পত্রপল্লবে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে প্রকৃতির অবয়বে। নতুন সুরের বার্তা নিয়ে সবুজের সমারোহে আগমন বর্ষার। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘আবার এসেছে আষাঢ় আকাশও ছেয়ে… আসে বৃষ্টিরও সুবাস ও বাতাসও বেয়ে…’ কিংবা ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নবযৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা…’ কিংবা ‘এমনও দিনে তারে বলা যায়, এমনও ঘনঘোর বরষায়…’।
বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনি, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস। লেবু পাতার বনেও যেন অন্য আয়োজন। উপচেপড়া পুকুরে রঙিন হয়ে ফোঁটে পদ্ম, সে কেবলই বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। কেয়ার বনেও কেতকীর মাতামাতি। আহা কত না মধুর এই বরষা।
আসুন আমরা আজ মনটাকে ধুয়ে ফেলি প্রতীকী বর্ষার জলে। ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল’-এর ভুবনভুলানো হাসি মনে ধারণ করি ।
সুখ স্মৃতিগুলো মনে রেখেই প্রতিবছর বর্ষাকে বরণ করে নেয় বাঙালি। বিশেষ করে শহরে নগরে হরেক আয়োজনে চলে বর্ষা বন্দনা।
হঠাৎ বর্ষা যেমন আনন্দের, তেমনি হঠাৎ বিষাদে ভরিয়ে তোলারও। বন্যা তার ভয়ংকর রূপটির নাম। তবুও বর্ষা বাঙালী জীবনে নতুনের আবাহন। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাঙলা মায়ের নবজন্ম এই বর্ষাতেই। বর্ষার ফেলে যাওয়া অফুরন্ত সম্ভাবনার পলিমাটি থেকেই উন্মেষ ঘটে সারা বছরের খাদ্য-শস্য-বীজের।
লেখকঃ সাংবাদিক, কলাম লেখক, সম্পাদক মাগুরা নিউজ।
ছবি- আজ দুপুরে মাগুরা ষ্টেডিয়ামের পেছন থেকে তোলা ছবি।


