মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় হঠাৎ বর্ষণে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভারী বর্ষণ হয়। পৌষের মাঝামাঝি এ বৃষ্টিতে জেলার শতাধিক ইটভাটার কাঁচা ইটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, দুপুর থেকে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বিকেল থেকে তা রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌষের মাঝামাঝিতেই এমন ভারী বর্ষণ হবে, এটা হয়ত অনেকেরই মাথায় আসেনি। এর খেসারতও দিয়েছেন তারা।
জেলার বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ইটভাটা ঘুরে জানা যায়, জেলায় বর্তমানে ইট তৈরির মৌসুম চলছে। প্রতিটি ইটভাটায় মালিক ও শতাধিক শ্রমিক ইট তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রত্যেক মৌসুমে এ সব ভাটায় কয়েক দফায় ইট তৈরি করা হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ভাটায় বছরে ৫০ থেকে ৫৫ লাখ ইট তৈরি হয়। চলমান সময়ে কোনো কোনো ভাটায় দ্বিতীয় দফা, আবার কোনো ভাটায় তৃতীয় দফায় ইট তৈরি করা হচ্ছিল।
ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক হাজার ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় সাড়ে চারশ’ টাকা এবং এক লাখ ইট তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। বেশ কয়েকদিন ধরে ভাটা মালিকরা কাঁচা ইট তৈরি করে রোদে শুকিয়ে তা পুড়িয়ে পাঁকা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু মুসলধারে বৃষ্টির কারণে পানিতে ভিজে সদ্য তৈরি কাঁচা ইট ভেঙে নষ্ট হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এতে ১৩৪টি ইটভাটা মালিকের প্রায় ৫০ লাখ কাঁচা ইট ধ্বংস হয়ে গেছে।
সদরের শাপলা ইটভাটার মালিক আলমগীর হোসেন জানান, দুই দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা ইটের ভীষণ ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতি এই মৌসুমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ বছর বড় অংকের লোকসান গুণতে হবে তাদের।
রামনগর এলাকার এএনবি ইটভাটার ম্যানেজার শাহ আলম জানান, কয়েকদিন আগে তৈরি করা ইট রোদে শুকানো হচ্ছিল। কিন্ত অসময়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে ইটগুলো গলে মাটিতে মিশে গেছে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসহ মাঠ পরিস্কার করতে অতিরিক্ত অনেক টাকা খরচ হবে।
মাগুরা সদর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলার শতাধিক ইটভাটার পোড়ানোর অপেক্ষায় থাকা প্রায় দশকোটি কাঁচা ইট বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ইটভাটা মালিকদের ইট পোড়ানোর কাজ আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অনেকেই পুঁজি হারিয়ে নতুন করে এ বছর ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করতে পারবেন না। এতে এ বছর ইটের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইটের সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
মহম্মদপুর উপজেলা সদরের রাজু ব্রিকস্ এর মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এমনিতে নানা কারণে ইটের ব্যবসা এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। অকাল ভারী বর্ষণে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নানা উপকরণ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বাজারে এই ক্ষতি পুষিয়ে অনেকের পক্ষে ইট উৎপাদনে ফিরে আসা দুরূহ হয়ে পড়বে।


