মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হলেও বাগানগুলোতে পচন রোগ দেখা দিয়েছে। রোগের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বালাইনাশক প্রয়োগ করে ও কোনো ফল পাচ্ছে না। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, জেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মাগুরা সদর উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, শ্রীপুর উপজেলায় ৩২৫ হেক্টর, মহম্মাদপুর উপজেলায় ১৭৫ হেক্টর এবং শালিখা উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। প্রতি বছরই আমের চাষ বাড়ছে। আমের উৎপাদন আশা করছে হেক্টরপ্রতি ২০ মেট্রিক টন। সে হিসেবে মাগুরায় এবার আমের উৎপাদন হবে ১৫ থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন।
মাগুরায় আবাদকৃত আমের মধ্যে রয়েছে ল্যাংড়া, ফজলী, হিমসাগর, বোম্বাই, গোপাল ভোগ, আম্রপালি, ক্ষিরসাপাত, মোহনভোগ, আশ্বিনা, মল্লিকা, রূপালী প্রভৃতি। ইতোমধ্যে বাজারে আম উঠতে শুরু করেছে।
মাগুরার শত্রুজিৎপুর, ইছাখাদা, হাজরাপুর, নাকোল, খামার পাড়া, আমুড়িয়া, কুচিয়ামোড়া, সিংড়া, শ্রীকোল এলাকায় আমের আবাদ বেশি হয়। কিন্তু আমে পচন রোগ দেখা দেয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার বাগান মালিকরা। গাছে থাকতেই প্রথমে আমের গা ফেটে কালো হয়ে ধীরে ধীরে পচতে শুরু করে একপর্যায়ে গাছ থেকে পড়ে যাচ্ছে।
মাগুরা শত্রুজিৎপুর গ্রামের আম বাগান মালিকরা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতবেক ওষুধ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আম ব্যবসায়ী আছালত শেখ জানান, বাজারে যে আম আসছে তার মধ্যেও কিছুকিছু পচন দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আমের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছে না বাগান মালিকরা।
আম চাষী আকমল জানান, কৃষি বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ প্রয়োগ করেও কোনো সুফল মিলছে না।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, কৃষকের আম বাগানে মাত্রাতিরিক্ত ঝাপড়া থাকা এবং পাতা পরিষ্কারে অবহেলা থাকায় বাগানের ভেতরে আলো-বাতাস চলাচলের পরিবেশ না থাকায় সেখানে হোপার পোকা অবস্থান করে। এ ক্ষেত্রে পাতার নিচের অংশ ও গাছের গোড়ায় সাফসিন ও নিপাসিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে অনেকাংশে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। মাগুরায় আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিৎ বলে অভিজ্ঞ মত পোষণ করেছেন।


