মাগুরানিউজ.কমঃ
চলতি মৌসুমে প্রচুর তিল উৎপাদন হয়েছে মাগুরা জেলার চার উপজেলায়। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেড়েছে উচ্চফলনশীল তিলের আবাদ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাগুরার চার উপজেলায় ১ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চাষ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রায় চেয়ে ৩ হাজার ২৭৪ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫১০ হেক্টর, শ্রীপুরে ৩১০, শালিখায় ২ হাজার ৩৬০ ও মহম্মদপুরে ২৫০ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চাষকৃত জমি থেকে তিল উৎপাদন হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টন।
জেলায় চলতি মৌসুমে ফসলটি উৎপাদনে ব্যবহূত জমির প্রায় ৮০ শতাংশে চাষ করা হয়েছে উচ্চফলনশীল জাতের তিল। উচ্চফলনশীল জাতগুলোর মধ্যে আছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি-২ ও বারি-৪ এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিনা-১।
ভোজ্যতেল ও ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন খাবারে তিল ব্যবহার করা হয়। এ কারণে পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা আছে বাজারে। এ বছর কৃষি বিভাগ স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উচ্চফলনশীল জাতের তিল চাষে ব্যাপকভাবে উত্সাহিত করায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় তিন গুণ জমিতে তিল চাষ করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে তিলের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।
মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় জাতের তিল সাধারণত দেখতে কালো হয়। কিন্তু বারি-২ জাতের তিল দেখতে কালচে রঙের। এটি মৌসুমের শুরুতে আগাম বপনের উপযোগী। সাধারণ জাতের তুলনায় এ তিল থেকে ৪০-৪৫ ভাগ তেল বেশি হয়। এছাড়া বারি-৪ জাত দেখতে গাঢ় লালচে। উভয় জাতই পরিবর্তিত আবহাওয়ায় চাষাবাদের জন্য সহনীয়।
মাগুরা পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, বিনা-১ জাতের তিল সাধারণ জাতের তুলনায় দেখতে সুন্দর। রঙ সাদা। এর তেল খুবই উত্কৃষ্ট মানের এবং এ তিল ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন খাদ্যে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিনা-১ জাতের তিল চাষ করে দেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রীতে ব্যবহারের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন কৃষকরা।


