মাগুরানিউজ.কমঃ
সব পোকাই ফসলি খেতের জন্য ক্ষতিকর নয়। এমন কিছু পোকা আছে যা শত্রু পোকা দমন করে বন্ধু হিসেবে কাজ করে। এদের বলা হয় বন্ধু পোকা। কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারে জীববৈচিত্র্য থেকে শত্রু পোকার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু পোকাও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে ফসলি খেতগুলোতে এখন বন্ধু পোকার সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
আর এ জন্য মাগুরা সদর উপজেলার চাউলিয়া ইউনিয়নের শ্রীকুন্ডী গ্রামের ৬০ একর পরিমাণ সবজির খেতে ইসডেপ কনসার্ন ফাউন্ডেশন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এলাকার বেগুন, চালকুমড়া, শিম, উচ্ছে, শসাসহ বিভিন্ন সবজিখেতে তারা প্রায় ১৩ লাখ বন্ধু পোকা ছেড়েছে।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক গাউছুল আযম স্বাধীন জানান, তারা শ্রীকুন্ডি এলাকার ৬০ একর জমিতে ৩৫ হাজার আইব্রাকন ও ১২ লাখ ট্রাইকোগ্রামা- এই দুই জাতীয় বন্ধু পোকা ছেড়েছেন। এ ছাড়া স্বল্পসংখ্যক লেডি বার্ড বৃটল নামে আরেক জাতীয় কিছু পোকা ছাড়া হয়েছে।
আইব্রাকন জাতীয় বন্ধু পোকা মাজরা জাতীয় ক্ষতিকর পোকার শরীরে তাদের আল ফুটিয়ে ওই পোকার জীবাণু শক্তি নিঃশেষ করে দেয়। অপরদিকে ট্রাইকোগ্রামা জাতীয় বন্ধু পোকা একই পদ্ধতিতে সবজির ডগা ছিদ্রকারী ক্ষতিকর মাজরা পোকার ডিম নষ্ট করে দেয়। ফলে তাদের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে পোকা দমন করলে খেতে কীটনাশকের ব্যবহার প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ যেমন বাঁচে, তেমনি মৌমাছি জাতীয় পরাগায়ন সহায়ক পতঙ্গ সবজি মাচায় খুব সহজে চাক বাঁধে। আর তার ফলে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হয়।
ইসডেপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এসপিজিআর প্রকল্পের সহায়তায় তাদের ল্যাব থেকে প্রথমে ডিম সংগ্রহ করে আনছেন। পরবর্তীতে এই ডিম নিজেদের ল্যাবে দুই দিন রেখে পোকার জন্ম হলে পোকাসমৃদ্ধ বৈয়ামগুলো কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে দিচ্ছেন যথাযথ প্রশিক্ষণ।
একেকটি বৈয়ামে আইব্রাকন জাতীয় বন্ধু পোকা থাকে ৮০০ থেকে ১০০০ পরিমাণ। যা প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর ১ হেক্টর জমিতে ছাড়া যায়। অপরদিকে প্রতিটি বৈয়ামে ট্রাইকোগ্রামা জাতীয় বন্ধু পোকা থাকে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার। যা এক সপ্তাহ অন্তর মৌসুম চলা পর্যন্ত প্রতি ১ হেক্টর জমিতে একবার করে অবমুক্ত করতে হয়।
তারা বর্তমানে সবজিখেতে মাজরা পোকা নিধনের জন্য বন্ধু পোকা ছাড়ার পাশাপাশি মাছি জাতীয় পোকা নিধনের জন্য ফেরমন ট্রাপ ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন। সেই সঙ্গে এই দুই পদ্ধতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আশা করছেন।


