৫০ মাসেও কার্যকর হয়নি মাগুরার পূর্ণিমা হত্যার রায়, কাঁদছেন বাবা-মা

মাগুরানিউজ.কমঃ

বাবা-মা পূর্ণিমার ছবি হাতে নিয়ে কাঁদছেন
বাবা-মা পূর্ণিমার ছবি হাতে নিয়ে কাঁদছেন

প্রতিদিন সকালে মেয়ে পূর্ণিমার ছবি থেকে বাসি ফুল সরিয়ে তাজা ফুল বিছিয়ে দেন মা অঞ্জনা সমাদ্দার। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন মেয়ের ঘাতকেরা যেন শাস্তি পায়। মেয়ের ছবি বুকে ধরে দেখতে দেখেতে চার বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু আজও স্কুলছাত্রী পূর্ণিমা হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি।

২০১০ সালে ২ আগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পাটখেতের মধ্যে নিয়ে একই গ্রামের তিন দুর্বৃত্ত তাকে পাষবিক নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে। পূর্ণিমার বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঘোষিয়াল গ্রামে। রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের চার বছর পূর্ণ হলো আজ।

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ঘোষিয়াল গ্রামের চাঞ্চল্যকর পূর্ণিমা হত্যা মামলার ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

২০১০ সালে ২ আগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পাটখেতের মধ্যে নিয়ে একই গ্রামের তিন দুর্বৃত্ত তাকে পাষবিক নির্যাতনে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে। চার বছরেও হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি।

এ নিয়ে নিহতের পরিবার, এলাকার মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

ঘটনার দিন শ্রীপুরের চর মহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পুর্ণিমা সমাদ্দারকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিকটবর্তী একটি পাটখেতে নিয়ে পাষবিক নির্যাতনের চেষ্টা করে করে ব্যর্থ হওয়ায় হত্যা করে ওই গ্রামের আক্কাস, ইউসুফ ও জিল্লুর নামে তিনি যুবক। পরবর্তীতে  আদালতে স্বীকারোক্তি ও স্বাক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে  ওই হত্যার দায়ে মাগুরা জজ আদালত ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর অভিযুক্ত আসাামদের ফাঁসির আদেশ দেন।

পূর্ণিমার বাবা মনজিৎ সমাদ্দার ও মা অঞ্জনা সমাদ্দার জানান- হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তারা ও এলাকার মানুষ হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। হত্যাকারীরা গ্রেফতার হওয়ার এক বছর দুই মাস পর মাগুরা জজ আদালত থেকে তাদেরকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু উচ্চ আদালতের আপিলের সুযোগে বিচারে  দীর্ঘ সূত্রতা তৈরি হয়েছে। ওই আদেশের পর দুই বছর ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও উচ্চ আদালতে মামলাটির শুনানিই শুরু হয়নি। ফলে  আইনের ফাঁক ফোকড় গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পবিরবার ও এলাকাবাসী । এ হত্যাকাণ্ডের পর ন্যায়বিচারের দাবিতে এলাকার বিভিন্ন সংগঠন থেকে মানববন্ধন, মিছিল, সমাবেশসহ আন্দোলন করা হয়।

মহিলা পরিষদের  সহসভাপতি লিপিকা দত্ত জানান- সময় ক্ষেপনের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়া চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের একটি ন্যাক্কারজনক  হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।

পূর্ণিমার স্কুলশিক্ষক উপজেলা শিক্ষক সমিতির সদস্য বিধান চন্দ্র সরকার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি  বলেন- অপরাধীদের সঠিক বিচারের মাধ্যমেই কেবলমাত্র সামাজিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে। অন্যথায় অপরাধীরা লাই পেয়ে নতুন করে অপরাধ সংগঠিত করার চেষ্টা চালাবে। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই অপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: