মাগুরানিউজ.কমঃ
অস্ট্রেলিয়ায় জটিল অপারেশনের মাধ্যমে জোড়া মাথা পৃথক করা বাংলাদেশি শিশু কৃষ্ণাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের সাঁড়াতলা গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আনা হয়েছে। আর তৃষ্ণা অসুস্থ থাকায় তাকে দেশে আনা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে গত মার্চ মাসে লাভলী অস্ট্রেলিয়ায় একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। মা-বাবা তার নাম রেখেছেন দ্বীপ মণ্ডল। ময়রা কেলি ওই শিশুটির নাম দিয়েছেন মেথি উড।
জানা গেছে, অতি গোপনীয়তা রক্ষা করে ময়রা কেলি চলতি মাসের ১৩ তারিখ লাভলী, কার্তিক, কৃষ্ণা ও নবজাতক শিশু দ্বীপকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। ১৪ তারিখ খুলনায় পৌঁছান তারা। এ সময় একটি হোটেলে অবস্থান করেন তারা। ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা সবাই ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়নের সাঁড়াতলায় কার্তিকের গ্রামের বাড়িতে আসেন। কৃষ্ণা সুস্থ হয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছে- এমন খবর পেয়ে ওই রাতেই গ্রামের অনেক মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় জমান।
লাভলী-কার্তিক দম্পতিকে রেখে শুধু কৃষ্ণাকে নিয়ে ২৫ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার কথা রয়েছে ময়রা কেলির। ময়রা কেলির দুই ছেলে আহমেদ ও ইমানুয়েল। তারা সবাই একসঙ্গেই থাকেন। ময়রা কেলি তার দুই ছেলের মতো তৃষ্ণা-কৃষ্ণাকেও দেখাশোনা করেন বলে লাভলী মল্লিক জানান।
জানা যায়, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের সাঁড়াতলা গ্রামে লাভলী মল্লিকের বাড়ি। ২০০৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় খুলনা মহানগরীর ফুলবাড়ি গেট এলাকায় প্যাসেন্টস নার্সিং হোমে লাভলী মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর জন্ম দেন। জন্মের ১৭ দিন পর খুলনার স্থানীয় একটি মিশনের প্রধান ফাদার প্রেমানন্দের মাধ্যমে খুলনা মিশনারিজ অব চ্যারিটি নির্মলা শিশু ভবনের কর্তৃপক্ষ শিশুদের নিয়ে যায়। এরপর শিশু দুটিকে নিয়ে আসা হয় পুরান ঢাকার ইসলামপুরের মিশনারিজ অব চ্যারিটি শিশু ভবনে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে যমজ শিশু দুটিকে অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চিলড্রেনস ফার্স্ট ফাউন্ডেশনের অধীনে এতিমখানায় নেওয়া হয়। ২০০৯ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের জোড়া মাথা আলাদা করা হয়।

