মাগুরার কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মাগুরানিউজ.কমঃ 

image_78542_0

মানবতা ও জাতীয় জাগরণের কবি ফররুখ আহমদের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রবিবার। ১৯৭৪ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে ইন্তেকাল করেন। 

নির্লোভ, নির্মোহ, নির্ভয় ও নিঃশঙ্ক চিত্তের এ মানুষটি বাংলা ভাষা ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে লিখেছেন অবিরত। তার কবিতায় উঠে এসেছে মুক্তিকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং আশা জাগিয়েছেন সুপ্তিমগ্ন জাতিকে। শুনিয়েছেন নতুন দিনের নব আনন্দের নব চেতনার ও নব জাগরণের গান।

১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার মধুমতি নদী তীরের মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফররুখ আহমদ। খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ও রওশন আখতারের দ্বিতীয় পুত্র ফররুখ আহমদের স্কুলজীবন অতিবাহিত হয় কলকাতার বালিগঞ্জ হাইস্কুলে।

১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতা স্কটিশ চার্চ কলেজে ১৯৩৯ সালে দর্শন বিষয়ে এবং পরবর্তীতে ১৯৪১ সালে কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন। নানা কারণে প্রথাগত শিক্ষাটা শেষ করেননি তিনি।

১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিস ও ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাই অফিসে কিছু দিন চাকরি করেন। এরপর যুক্ত থেকেছেন মাসিক মোহাম্মদী সম্পাদনায় এবং সাহিত্যচর্চা নিয়েই জীবনের বৃহত্তর সময় কাটিয়েছেন তিনি। তিনি রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা ও বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী ছিলেন।

ফররুখ আহমদের কাব্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্বদেশ, সমকাল ফুটে উঠেছে সার্থকভাবে। অফুরান সৌন্দর্য, উদাস কল্পনা, রূঢ় বাস্তবতা, প্রদীপিত আদর্শ, সমুদ্রবিহার, রোমান্টিকতা, প্রেম প্রভৃতি তার কবিতার এক মৌলিক চরিত্র নির্মাণ করেছে।

গানের ভুবনেও তার পদচারণা ছিল। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে শিল্পী ও গীতিকার হিসেবে তার ছিল ব্যাপক খ্যাতি। শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

তার প্রথম ও সেরা কাব্যগ্রন্থ সাত সাগরের মাঝি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২), নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩), হাতেম তায়ী (১৯৬৬), পাখির বাসা (১৯৬৫), হরফের ছড়া (১৯৬৮), নতুন লেখা (১৯৬৯), ছড়ার আসর (১৯৭০), নয়া জামাত (১৯৫০), হে বন্য স্বপ্নেরা (১৯৭৬), ইকবালের নির্বাচিত কবিতা (১৯৮০), চিড়িয়াখানা (১৯৮০), কাফেলা (১৯৮০), হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১), সিন্দাবাদ (১৯৮৩), কিস্সা কাহিনী (১৯৮৪), ফুলের জলসা (১৯৮৪), তসবির নামা (১৯৮৬), মাহফিল (১৯৮৭), ফররুখ আহমদের গল্প (১৯৯০), ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য (১৯৯১), দিলরুবা (১৯৯৪) প্রভৃতি তাঁর অমর সাহিত্যকীর্তি।

কবি বাহান্নর ভাষা আন্দোলনসহ প্রতিটি পর্বেই যুক্ত ছিলেন প্রত্যক্ষভাবে। জীবদ্দশায় পেয়েছেন প্রাইড অব পারফরমেন্স প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার প্রভৃতি। মরণোত্তর ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে।

কবি ফররুখ আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাগুরাতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: