মহম্মদপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ

মাগুরানিউজ.কমঃ 

???????????????????????????????

মাগুরার মহম্মদপুরে ৭১’র দামামায় বহূ অপকর্মে জড়িত ও নকশাল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আলী রেজা খোকন এখন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তি, অর্থআত্মসাৎ, সম্মানীভাতা প্রদানে অনিয়মসহ তার বিরুদ্ধে বহূবিধ অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎসহ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা আলী রেজা খোকনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর রিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগকারি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সাবেক জেলা কমান্ডার ও যুদ্ধকালিন ফিল্ড কমান্ডার হাজী মো: জামাল উদ্দিন শনিবার বিকালে ওই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ এনে স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। অবশ্য উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন কমান্ডার আলী রেজা খোকন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক বরাবর ভারতীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দায়েরকৃত অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে-মহম্মদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী রেজা খোকন নিজেই মুক্তিযোদ্ধা নন। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে অযোগ্যদের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভূক্ত করে অবৈধভাবে সম্মানীভাতা প্রদান ও আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। উপজেলার ভাতাপ্রাপ্ত ৪২৭ জনের বিষয়ে তদন্ত করলে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা পাওয়া যাবে বলেও জোর দেয়া হয়েছে।

ওই কমান্ডারের বিরুদ্ধে অপর অভিযোগ পত্র দায়ের করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবর। সেখানে বলা হয়েছে-১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন সময়ে বর্তমান উপজেলা কমান্ডার আলী রেজা খোকন নকশাল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মহম্মদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫০/৬০ জন ব্যক্তিকে নকশাল বাহিনী হত্যা করে এবং অনেক ভাড়িঘরে লুটপাট চালানোতে তার সম্পৃক্তার অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই কমান্ডারের বিরুদ্ধে।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৭ বছর বয়সী উপজেলার পাল্লা গ্রামের জনৈক মুস্তাফিজুর রহমানকে সম্মানী ভাতা প্রদানের অভিযোগ করা হয়েছে। লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানো, হেল্থ ফাউন্ডেশনের নামে অর্থ গ্রহণ, প্রত্যেক বছরে ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়, বীরপ্রতীক গোলাম ইয়াকুবের ভাস্কর্য নির্মাণের কথা বলে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেও তা নির্মাণ না করা, মুক্তিযোদ্দাদের ভাতার টাকা আত্মসাৎসহ পৃথক ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী রেজা খোকনের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে, ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উপজেলা কমান্ডার আলী রেজা খোকনকে ভূয়া, নকশাল এবং দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তার সনদ বাতিলের দাবি করেছেন।

শনিবার বিকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী জামাল উদ্দিন। এ সময় তার সাথে যুদ্ধকালীন শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলা কমান্ডার নূর মোস্তফা বক্তব্য রাখেন। অভিযোগকারি মুক্তিযোদ্ধারা আলী রেজা খোকনের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদ গ্রহণ, অর্থ আত্মসাৎসহ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরেন। একই সাথে তদন্ত পূর্বক উপজেলার সকল ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলের দাবি করেন তারা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী রেজা খোকন তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিগত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্যানেলের ভাইজানেরা ষঢ়যন্ত্রমূলকভাবে মনগড়া অভিযোগপত্র প্রদান করছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: