মাগুরানিউজ.কমঃ
অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কিশোরী জান্নাতের বাল্যবিয়ে। পূর্ব নির্ধারিত দিনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মাগুরা সদর উপজেলার জুইতড়া গ্রামে কনের বাড়িতে এ বিয়ের হওয়ার কথা ছিল।
মাগুরা জেলা এনজিও কো-অর্ডিনেটর আব্দুল হালিম জানান, জান্নাতের বিয়ের জন্য গেট নির্মাণ, সাজসজ্জা, রান্না-বান্নার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। যথারীতি জুম্মার নামাজের পর বাসে চড়ে বরযাত্রীসহ বর এসে হাজির হন কনের বাড়িতে। কিন্তু তাতে বাধ সাধেন বাল্য বিয়ের খবর পেয়ে মাগুরা থেকে ছুটে আসা তিনিসহ কয়েকজন সাংবাদিক ও এনজিওকর্মী। তারা কনের পিতাসহ বর পক্ষের অভিভাবকদের বাল্যবিয়ের কু-ফল ও আইনগত বাধার বিষয়ে বুঝিয়ে এ বিয়ে বন্ধর জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু কোনো পক্ষয়ই বিয়ে বন্ধে রাজি না হওয়ার বাধ্য হয়ে তারা মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে খবর দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুর ইসলাম দ্রুত পুলিশ নিয়ে হাজির হন কনের বাড়িতে। এ সময় তিনিও দু’পক্ষকে বুঝিয়ে এ বিয়ে বন্ধর অনুরোধ জানান। এক পর্যয়ে ভ্র্যামমাণ আদালত বসিয়ে উপস্থিত গ্রামবাসীর সাক্ষীর ভিত্তিতে অপধাধ প্রমাণিত হওয়ায় মেয়ের বাবা খলিল শেখকে পাঁচ শ’ টাকা অনাদায়ে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও বর আসলাম মোল্লা এবং তার ভগ্নিপতি মতিয়ার রহমানকে প্রত্যেকে এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। সেই সাথে তারা মুচলেকা দিয়ে বিয়ে বন্ধের অঙ্গিকার করেন।
বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া জান্নাত স্থানীয় একটি এনজিও পরিচালিত স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। তার বয়স মাত্র ১২ বছর।
জান্নাত জানায়, সে বিয়েতে রাজি ছিল না। তার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া শেষে করে তারপর বিয়ে করবে।
তবে জান্নতের বাবা জানান, মেয়ে বিয়ের বয়স হয়নি। তিনি পেশায় সামান্য গ্রাম্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। যা রোজগার করেন তাতে সংসার চলেনা। অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে তিনি এত অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।


