তিল চাষে মাগুরায় বিপ্লব; প্রতি মৌসুমে ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে দুই কোটি টাকার তিল

মাগুরানিউজ.কমঃ 

m

মাগুরা জেলার চার উপজেলায় চলতি মৌসুমে তিল চাষে বিপ্লব সাধিত হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় জেলায় এ বছর উচ্চ ফলনশীল তিলের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমিতে তিল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সেখানে চলতি মৌসুমে প্রায় ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে তিলের চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রায় তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। চাষকৃত জমি থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন তিল উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলায় চলতি মৌসুমে মোট চাষকৃত তিলের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের তিল চাষ হয়েছে। আবাদ হওয়া এসব জমির প্রায় ৮০ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট বারি-২ ও বারী-৪ এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবিত বিনা-১ জাতের উচ্চ ফলনশীল তিল চাষ হয়েছে। বারি ও বিনা তিল সাধারণ জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন। সাধারণ জাতের তিল যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় ১ মেট্রিক টন সেখানে বারি ও বিনা তিল হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয় ২ থেকে আড়াই মেট্রিক টন। 

স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে মাগুরা থেকে প্রতি মৌসুমে প্রায় দুই কোটি টাকার তিল রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। যে কারণে অর্থকরী ফসল হিসেবে তিল চাষ এখন কৃষকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত তিল পুষ্টি ও খাদ্য গুণে অনন্য হওয়ায় বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদার কারণে রপ্তানিকারকরাও চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছেন এ রবি শস্য চাষের জন্য।  

কয়েক বছর ধরে আইএসওয়াইএ-ইন্টারন্যাশনাল নামে মাগুরার এ প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপের কানাডা, অস্ট্রিয়া এশিয়ার চিন, কোরিয়া, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে তিল রপ্তানি করছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ী ও কৃষকের কাছ থেকে তিল সংগ্রহ করে মাগুরা, কুষ্টিয়া ও বরিশালে প্রতিষ্ঠিত তিনটি তিল শোধন কারখানার মাধ্যমে প্রতি বছর ২ থেকে আড়াই হাজার টন তিল বিদেশে রপ্তানি করছে।

মাগুরা শহরের খান পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত তিল শোধনাগার আইএসওয়াইএ-ইন্টারনাশনাল। কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকরে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত সাদা, কালো, লাল ও হলুদ এ ৪ ধরনের তিলই বিদেশের বাজারগুলোতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে তিল থেকে যে ভোজ্য তেল তৈরি হয় তা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিকর কলস্টরেলমুক্ত। এ ছাড়া সাদা তিল বিদেশে উন্নত মানের ফাস্টফুডে একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। অপরদিকে তিলের বর্জ্য দিয়ে তারা তৈরি করছে পোল্ট্রি খাদ্য।

তাদের দাবি মতে, বিদেশে তিলের ব্যাপক বাজার তৈরি হবার কারণে তারা মাগুরাসহ কয়েকটি জেলার কৃষকদের তিল চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিনামূল্যে এর বীজ সরবরাহ করছেন। এ ছাড়া রপ্তানিযোগ্যতার কারণে বর্তমান বাজারে কৃষকরা তিলের মূল্য আগের চেয়ে বেশি পাচ্ছেন। অতীতে প্রতি মণ তিল যেখানে বিক্রি হতো ১ হাজার টাকা থেকে ১১শ’ টাকায়, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬শ’ টাকা থেকে ১৮শ’ টাকায়। এমনকি অফ-সিজনে এই তিলের দাম ২ হাজার টাকা মণ দরেও বিক্রি হয়। যে কারণে কৃষকদের মাঝে তিল চাষ অন্যতম অর্থকারী ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

মাগুরার আইএসওয়াইএ-ইন্টারন্যাশনালের শোধানাগারে গিয়ে দেখা গেছে, উন্নতমানের বেশ কিছু মেশিন দিয়ে প্রতিদিনই প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে তিল। এখানে সংগ্রহকৃত তিল প্রথমে নিয়োজিত শ্রমিকদের দিয়ে এক ধরনের ছাকুনি দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর পরিশোধনের কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে করা হয় প্যাকেট জাত। এই প্যাকেট জাত পরিশোধিত তিলই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী বাইরের দেশগুলোতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: