মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা সদর উপজেলার বগুড়া গ্রামের এক কৃষক দম্পতি শনিবার ঝিনাইদহের একটি ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় মারা গেছেন। এ ঘটনাটিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওই দম্পতির পরিবার ও স্থানীয়রা। ওই ডাক্তার ও তার সহযোগীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তারা।
এ সময় তারা এ হত্যা মামলা নিয়ে টালবাহানা করলে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়ক বন্ধ করে দেয়াসহ কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
নিহত জুয়েলের ছোট ভাই মো. রুবেল হোসেন জানান, সন্তান লাভের আশায় জুয়েল হোসেন ও তার স্ত্রী নাসরিন খাতুন শনিবার চিকিৎসা নিতে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহে ডক্টরস ক্লিনিকে যান। সেখানে ডাক্তার হামিদুন্নেছা পাখি তাদের দুইজনকে দুটি ইনজেকশন দিয়ে একটি ঘরের মধ্যে রাখেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর ওই ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিহতদের আত্মীয়ের ফোনে জানান যে, জুয়েল ও নাসরিন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দেখেন দুর্ঘটনার কোনো চিহ্নই তাদের শরীরে নেই।
তাদের দুজনের বাম হাতের কনুইয়ের কাছে শুধু ইনজেকশনের দুটি চিহ্ন আছে। তিনি দাবি করেন তার ভাই ও ভাবিকে পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে অনেক বড় একটি অপরাধী গ্রুপ জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, লাশ যেন ময়নাতদন্ত করা না হয় এজন্যও ওই ডাক্তার ও তার সহযোগীরা চেষ্টা চালিয়েছেন। প্রভাবশালীদের চাপে এখনো পুলিশ মামলা নিয়ে গড়িমসি করছে। তিনি ওই ডাক্তারকে দ্রুত গ্রেফতার দাবি জানান।
এদিকে, এ ঘটনাটিকে একটি ঠাণ্ডা মাথার খুন দাবি করে ক্লিনিকের মালিক প্রভাবশালী ডাক্তার পাখিকে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বগুড়া-ফুলবাড়ি এলাকার মানুষ রোববার সকালে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, প্রভাবশালীরা এ খুনের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খুনের সঠিক বিচার নিয়ে টালবাহানা করা হলে তারা মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়ে কঠোর আন্দোলন করবেন। তারা বলেন, আমাদের গ্রামের নিরীহ কৃষক দম্পতিকে এভাবে খুনের ঘটনায় গোটা এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান তারা।



