মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার বেঙ্গা-বেরইল পূর্বপাড়ায় অবস্থিত বেরইল পূর্বপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অপরাধে সাখাওয়াত নামে এক শিক্ষককে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও অন্যত্র বদলীর ব্যবস্থা নিয়েছেন মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুর রাজ্জাক।
বিস্তারিত ঘটনার বিবরণে জানাযায়, গত সোমবার দুপুরে সাখাওয়াত নামের ঐ পাষন্ড শিক্ষক ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে স্কুলের ২য় তলায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর একই সাথে লাগোয়া প্রাইমারী, হাইস্কুল, কলেজ এবং এলাকাবাসী স্কুল ঘেরাও করে। শিক্ষক পলাতক রয়েছে।
এ ব্যপারে মেয়েটির পিতা হারুন মাগুরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষনিক কিছু করতে না পেরে পরদিন মঙ্গলবার এলাকাবাসী মিছিল, স্কুলে তালা ঝোলানো এবং মানব-বন্ধনের পদক্ষেপ নিলেও সেটা পন্ড হয়ে যায়।
মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুর রাজ্জাক উক্ত স্কুল পরিদর্শনে যান। সেখানে স্কুলের শিক্ষকবৃন্দসহ স্কুল কমিটিকে নিয়ে তিনি ধর্ষক শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি উত্থাপন করেন। সেখানে ধর্ষক শিক্ষক সাখাওয়াত ও মেয়েটির আলাদাভাবে স্বীকারোক্তি নেয়া হয়।
মিটিং শেষে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুর রাজ্জাক ধর্ষক শিক্ষককে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অন্যত্র বদলীর ব্যবস্থা করেন। যাতে সাখাওয়াত ঔ ছাত্রীকে পুনরায় লাঞ্চিত না করতে পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আব্দুর রাজ্জাক জানান, ১ সপ্তাহের মধ্যে উক্ত শিক্ষক স্থানীয় ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে টাকা তুলে ইউএনও’র সামনে হারুনের হাতে নগদ প্রদান করবেন। উক্ত টাকা মেয়েটির পরিবার ও মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)র যৌথ নামের একাউন্টে রাখা হবে। যাতে মেয়েটির পরিবার সেখান থেকে প্রতিমাসে ১ হাজার করে টাকা পেতে পারে। যখন উক্ত টাকা মেয়েটির বিয়ে, লেখাপড়া বা বিশেষ কোন কাজে লাগবে। তখন সে প্রশাসনিক সহযোগীতায় তুলে নিতে পারবে।

