মাগুরানিউজ.কমঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষা। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর কেটে গেছে ১৫টি বছর। টেস্ট খেলুড়ে অন্য দলগুলোকে হারানো গেছে, শুধু একটি দলকে হারানো যাচ্ছিল না। পাকিস্তান। বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যে ক্রিকেট বোদ্ধাদের ধারনা ছিল এবার নিজ দেশের মাটিতে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে। হলোও তাই।
প্রথম ম্যাচ ৭৯ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচ ৭ উইকেটের জয় নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই প্রথমবারেরমত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচে এল আরও বড় জয়, ৮ উইকেটে। সঙ্গে বাংলাওয়াশ পাকিস্তান।
পাকিস্তানের সঙ্গে একটি জয়ের জন্য যেখানে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে, সেখানে সিরিজ জয় তো এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদেও আনন্দ স্রোতে ভাসাবেই। সুতরাং, গোটা বাংলাদেশই সেই স্রোতে ভাসল। তৃতীয় ওয়ানডের আগে উঁকি দিচ্ছিল ‘বাংলাওয়াশ’।
এই কাজটা বাংলাদেশ এরআগেও ৯বার করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তবে ‘বাংলাওয়াশ’ শব্দটির আবির্ভাব মূলত ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে কিউইরা টানা চার ম্যাচ হেরে বসে। বৃষ্টির কারণে একটি ম্যাচে বল মাঠেই গড়ালো না। ‘বাংলাওয়াশ’ এর সূচনাটাও ওখান থেকেই। এরপর ২০১৩ সালে যখন আবার নিউজিল্যান্ড এল বাংলাদেশ তখনও তাদের একই ভাগ্য বরণ করতে হয়। এবার ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।
বুধবার এক তরফা ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে বাংলাওয়াশই করলো মাশরাফির দল। অথচ এ দলটি ১৬ বছর বাংলাদেশের কাছে ছিল অজেয়। একসময় বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাংলাদেশ হারবে, জিতবে পাকিস্তান। সমীকরণটা এমনই ছিল। তামিম ইকবালই সিরিজ শুরু করার আগে সজা করে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের কাছে হারই যেন আমাদের নিয়তি। আমরা হাজার রান করলেও যেন তারা সেটা চেজ করে ফেলবে। আবার তারা ৫০ করলেও যেন, আমরা সেটা তাড়া করতে পারব না।’ তবে এখন সেদিন আর নেই। এই ১৬ বছরে পৃথিবী এগিয়েছে। এগিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটও। পাকিস্তানও হলো, বাংলাওয়াশ।
এখন পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’ করেও সমর্থকদের মন ভরছে না। তারা আরও চায়। এই চাওয়াটা আসলে তৈরি করে দিয়েছে মাশরাফিরাই। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে এভাবে পর্যদুস্ত করা গেলে বর্তমান ক্রিকেটের সুপার পাওয়ার ভারতকে কেন নয়?
কোন উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি না হলে ধরে নেওয়া যায় আগামী জুনেই বাংলাদেশ সফরে আসছে ভারত। ক্রিকেটারররা মুখে না বললেও এখন কিন্তু তাদের দৃষ্টি চলে গেছে ভারতের দিকেই। যদিও পাকিস্তান সিরিজই শেষ হয়নি এখনও।
শুক্রবার একমাত্র টি২০ ম্যাচের পর দুই টেস্টের সিরিজও খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে মাশরাফিদের সাফল্যে সমর্থকরা খুব করে চাইছেন এই ধারা বজায় থাকুক ভারতের বিরুদ্ধেও। অধুনা যারা কি না ক্রিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে!
যাদের কাছে আমাদের পুরনো কিছু হিসাব-নিকাশও বাকি আছে। আমাদের জন্য বড় কষ্টের এই যে, টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ পৃথিবীর সব টেস্ট খেলুড়ে দেশে সফর করেছে শুধু প্রতিবেশী দেশ ভারত বাদে। বাংলাদেশ দল ভারতে খেললে না কি গ্যালারিতে দর্শক আসবে না! এই ছুতোয় বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে ভারতই এদেশে এসে খেলে যাচ্ছে। এটাই যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।


