মাগুরানিউজ.কমঃ
শেকড় অনুসন্ধানের অসাধারণ বোধ ও আন্তরিকতা, সমাজ সচেতনতা, দেশপ্রেম আর মানবিকতায় উদ্বুদ্ধকরণের দুর্দান্ত প্রয়াস নিয়েই তৈরি হয় টিভি মাধ্যমের শীর্ষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র এক একটি পর্ব। আর তাই তো ‘ইত্যাদি’ দীর্ঘ দুই যুগ ধরে গুণে-মানে খ্যাতির শীর্ষে থেকে দর্শকদের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ‘ইত্যাদি’র প্রাণপুরুষ হানিফ সংকেত খুঁজে বের করেন ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বিভিন্ন স্থান।
এবারের ‘ইত্যাদি’তে অনুষ্ঠানের শেষভাগে আবারও চমক দিয়েছেন হানিফ সংকেত। ইচ্ছা এবং শক্তি যদি প্রবল হয় তবে কোন প্রতিবন্ধকতাই তাকে প্রতিহত করতে পারে না। তারই প্রমাণ দিয়েছেন মাগুরার অন্ধ আবুল বাশারকে এনে। এই জন্মান্ধ মানুষটিকে দর্শকরা যখন অবলীলায় তরতর করে সুপারি গাছ, নারকেল গাছ, তালগাছে উঠে এসব গাছ পরিষ্কার করতে দেখেছেন, অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। অথচ সত্যি। এই আত্মনির্ভরশীল মানুষটি বৃক্ষসেবা করে গ্রামে পেয়েছেন বৃক্ষবন্ধু উপাধি। আর এই বৃক্ষসেবা করে যা পান তা দিয়েই পরিবারের ৭ জন মানুষের ভরণ-পোষণ করেন তিনি। তার হাত দু’টিই যেন তার চোখ।
‘ইত্যাদি’ সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে এসব মানুষকে খুঁজে এনে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে। শারীরিক কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও আমরা যারা শ্রমবিমুখ আর মনুষ্যত্ব হারিয়ে বসেছি, এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষটির কাছে সেই আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে। বিশিষ্ট নির্মাতা হানিফ সংকেত মানুষটিকে উপস্থাপন করেই ক্ষান্ত হননি, কেয়া কসমেটিকসের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। আর এসব কারণেই চিরনবীন এই অনুষ্ঠানটি কোটি কোটি দর্শকের অন্তরের মণিকোঠায় যেমন স্থান পেয়েছে তেমনি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারে এর প্রভাব, প্রতিক্রিয়া রয়েছে ব্যাপক। আবারও একটি চমৎকার অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্য হানিফ সংকেতকে ধন্যবাদ। দীর্ঘদিন ‘ইত্যাদি’র চলার পথে সাথী থাকার জন্য ধন্যবাদ কেয়া কসমেটিকসকেও।


