মাগুরানিউজ.কমঃ
ছোট ছোট শহরের জন্য বিখ্যাত চিলি। সে রকমই একটি ছোট্ট শহর লা সেরেনা। যেখানে আজ রাতেই (শুক্রবার মাঝ রাত তিনটায়) শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা যুদ্ধ। প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।
আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে যুদ্ধের চেয়েও স্পট লাইটটা সবচেয়ে বেশি আজ লিওনেল মেসির ওপরই। দুই দেশের কে হারলো কে জিতলো- ভক্তদের সেটা দেখার যেন ফুরসতই নেই। সবাই দেখতে চায়, মেসি কেমন খেললেন। ক্লাবের জার্সিতে যতটা উজ্জ্বল, জাতীয় দলের জার্সিতে ততটা নিষ্প্রভ- মেসি কি পারবেন এবার এই অভিযোগটাকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিতে! বার্সার হয়ে জিতেছেন লা লিগা, কোপা ডেল রে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। গৌরবের ট্রেবলের সঙ্গে কি তবে এবার কোপার মুকুটও পরবেন মেসি! প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আজ থেকেই শুরু করবেন বার্সার আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর।
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই টুর্নামেন্টে নামার আগে নীল-সাদা টিমের অধিনায়কের কথায় কোথাও যেন হতাশা। লাতিন আমেরিকাতেই গত বছর বিশ্বকাপ ফাইনালে হার এখনও লিওনেল মেসিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। শুধু বিশ্বকাপই নয়, মহাদেশীয় যুদ্ধেও গত আসরের হার এখনও তরতাজা মেসিদের হৃদয়ে। গত আসরে যে উরুগুয়ের কাছে কোয়ার্টারেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে!
আবার কোপায় লড়াইয়ে নামার আগে মেসিকে কথা বলতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সাফল্য নিয়ে। কোপায় মেসির দু’টো গোল সেই ২০০৭ সালে। গতবার কোনও গোলই করতে পারেননি এলএম টেন। এ বারের কোপাতে তাই আলবিসেলেস্তে ক্যাপ্টেন নিজেকে মেলে ধরতে চাইবেনই।
কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচের আগে মেসির কথায়, ‘বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলে ঠিক কী অনুভূতি হয়, সেটা জানা এখনও আমার স্বপ্ন।’ জার্মানির বিরুদ্ধে হার যে মেসিকে এখনও যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে এলএম টেনের কথাতেই, ‘ফাইনালে হেরে যাওয়াটা আমাদের সবাই সারা জীবন আফসোস করবে। এই হারের কোনও সান্ত্বনা পাইনি। বিশ্বকাপ জেতা এখনও আমার চূড়ান্ত স্বপ্ন।’
কথাগুলো শুনলে মনে হবে শনিবার ভোর রাতে হয়তো আরও একটা বিশ্বকাপই শুরু হতে চলেছে। আসলে আর্জেন্টিনা দলের জার্সি গায়ে ট্রফির স্বাদ এখনও অধরা মেসির। গত বিশ্বকাপের আগে ২০০৫ কনফেডারেশন কাপ, ২০০৭ কোপা আমেরিকা- দু’ দু’বার ফাইনালে উঠেও হারতে হয়েছিল ব্রাজিলের কাছে।
সে কথা মনে করিয়ে মেসির বক্তব্য, ‘অনেক দিন আমরা কোনও ট্রফি জিতিনি। তাই আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য কোপা আমেরিকা জেতা।’ মেসির নিজের বিশ্লেষণে, ‘বেশ কয়েকটা দল কিন্তু এবার ফেভারিট। ব্রাজিল খুব শক্তিশালী। বিশ্বকাপে কলম্বিয়া দেখিয়েছে কতটা শক্তিশালী হতে পারে। উরুগুয়েতেও ভালো খেলোয়াড় আছে। এমনকি ঘরের মাঠে চিলিও বেশ কঠিন প্রতিপক্ষ।’
রোনালদোর সঙ্গে মেসির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, প্রশ্ন ওঠে বিশ্বের সর্বত্র। লাতিন আমেরিকাও তার ব্যতিক্রম নয়। মেসির সামনে সেই প্রশ্ন উঠলে, সরাসরি বলে দিলেন, ‘কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। এটা মিডিয়ার তৈরি। আমরা নিজেদের ক্লাবের হয়ে ভালো খেলতে চাই। কখনওই ব্যাপারটা মেসি বনাম রোনালদো নয়।’
কোপা আমেরিকায় রোনালদো নেই। বার্সেলোনার সতীর্থ নেইমার আছেন। উরুগুয়েতে সুয়ারেজ নেই। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলই সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু কোপা আমেরিকায় সব সময় কাগজে-কলমে শক্তিশালী হওয়াটাই যে সব নয়, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ গতবারের টুর্নামেন্ট। আর্জেন্তিনা-ব্রাজিলকে ছিটকে দিয়ে ফাইনাল খেলেছিল উরুগুয়ে-প্যারাগুয়ে।
আরতুরো বিদাল-আলেক্সিস সানচেজদের নিয়ে ঘরের মাঠে চিলিও বড় বাধা হতে পারে। সদ্য বার্সেলোনার হয়ে ত্রিমুকুট জেতা মেসির কাছে তাই কোপা আমেরিকা মোটেই মসৃণ রাস্তা নয়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সূত্রে মেসির সামনে প্রশ্ন এসেছিল সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে সেই চার জনকে ড্রিবল করে গোলটা নিয়ে। জেরোম বোয়েটাং মেসির একটা ডজে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন। বোয়েটাংয়ের নাম না করে মেসির মন্তব্য, ‘বার্সেলোনার টিমমেটরা আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। ওরা সবসময়ই সেটা করে। ওদের মতো বড় ফুটবলাররা পাশে না থাকলে আমি নিজের খেলাটা খেলতে পারতাম না।’
বার্সেলোনার জাভি-ইনিয়েস্তা না থাকলেও মেসি পাশে জাতীয় দলে পাশে পাবেন অ্যাগুয়েরো-ডি মারিয়াদের। যাদের নিয়ে ব্রাজিলে গত বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন মেসি। এবার তাদের যুদ্ধ শুরু হচ্ছে চিলিতে।


