স্বনির্ভরতার পথে মাগুরায় ৮ হাজার ৬৪০ পরিবার

মাগুরানিউজ.কমঃ 

pak20141103185hkj506

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের কুমারকোটা গ্রামের ফারুক হোসেন অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পাশাপাশি উপজেলা অফিসের পাশে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান দিয়েও পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। মহাজোট সরকারের নেয়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় একটি গাভী পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার মনোবল আরও বেড়েছে তার।

এ প্রকল্পের আওতায় একই উপজেলার বরইচারা আটের ভিটাপাড়ার ভ্যানচালক শক্তি বিশ্বাসও পেয়েছেন একটি গাভী, যা দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

শুধু ফারুক হোসেন, শক্তি বিশ্বাসই নয়, তাদের মতো দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রামরত জেলার ১৬টি ইউনিয়নে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ১৪৪টি সমিতির মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৬৪০ জন সুবিধাভোগী স্বাবলম্বী হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় জেলার চার উপজেলায় মহিলা সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭৬০ জন এবং পুরুষ ২ হাজার ৮৮০ জন। এছাড়া ২০১৩ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পের আওতাধীন ১৬টি ইউনিয়ন ছাড়াও জেলার বাকি ২০টি ইউনিয়নে ১৮০টি সমিতি গঠন করে ১০ হাজার ৮০০টি পরিবারকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। খুব দ্রুত এসব সুবিধাভোগী পরিবারের মধ্যে উপকরণ বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), সমবায় অধিদফতর বোর্ড (কুমিল্লা), আরডিএ (বগুড়া) এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এ প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

মাগুরা জেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়ক সুব্রত কুমার দত্ত বলেন, অতি দরিদ্র মানুষ স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতি মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দারিদ্র্য দূর এবং সরকারের প্রতিশ্রুত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

জেলায় এ প্রকল্পে ১০ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ফান্ড গঠিত হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা প্রত্যেকে ২০০ টাকা হারে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। এখানে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা ৩ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ অনুদান পেয়েছেন। এ প্রকল্পের জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার চারটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ৮০টি গ্রামে এ প্রকল্পের অধীনে এরই মধ্যে ৮ হাজার ৬৪০ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ২০ হাজার টাকার একটি করে গাভী, ঘরের টিনের জন্য প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগি পালনের জন্য ৫ হাজার টাকা, শাকসবজি চাষে প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা এবং গাছের চারা রোপণের জন্য ১ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক বলেন, সরকারের নেয়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে খামারে পরিণত করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবর রহমান জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। মাগুরা জেলায় এ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্প গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

January ২০২৩
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

January ২০২৩
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
%d bloggers like this: