অপরাধtitle_li=অর্থনীতিtitle_li=আজকের পত্রিকা মাগুরায় এহসান সোসাইটির প্রতারণার শিকার ৫৫ হাজার গ্রাহক

মাগুরায় এহসান সোসাইটির প্রতারণার শিকার ৫৫ হাজার গ্রাহক

মাগুরানিউজ.কমঃ 

imagesএক সপ্তাহ আগে এহসান সোসাইটির কর্মচারিরা মাগুরা সদরের সাজিয়াড়ায় প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হওয়ায় রিয়েল স্টেট এবং সঞ্চয় প্রকল্পের অন্তত: ৫৫ হাজার গ্রাহকের কয়েকশ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই নানারকম অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটছে।খোজ নিয়ে জানা যায়, এহসান সোসাইটিতে লগ্নিকৃত টাকার কোন মুনাফা না পেয়ে মাগুরার হাজার হাজার গ্রাহক গত এক বছর ধরে অফিসে ধর্ণা দিয়েও ফল পাননি।

তথ্য অনুসন্ধ্যান করে জানা গেছে, মাগুরা কৃষি ব্যাংকের কর্মচারি কাজি রবিউল ইসলাম সেবা মূলক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে ২০০৩ সালের ২৫ মার্চ সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে আল এহসান নামে একটি সংস্থার নিবন্ধন নেয়। প্রথম দিকে তারা ‘ভিক্ষুক মুক্ত মাগুরা’ গঠনের শ্লোগান নিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও দুই বছরের মাথায় শুরু করে ব্যাংকিং কার্যক্রম।

স্থানীয় মসজিদের ঈমাম থেকে শুরু করে ধর্মীয় নেতাদের ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি তাদের গ্রাহক তৈরি শুরু করে। পাশাপাশি মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ডিসি অফিস মসজিদের নীচতলা ভাঁড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালাতে থাকে। এমনকি মাসিক ১৬ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভিতরে একটি বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি পায় তারা। যা আল এহসান সোসাইটির গ্রাহক বৃদ্ধিতে ব্যপকভাবে সহায়তা করে।

১০ টাকার সদস্য পদ নিয়ে মাসিক কিস্তিতে মটর সাইকেল, মাসিক ১০০ টাকা কিস্তিতে মোবাইল সংযোগ ও মুনাফা ভোগী সদস্য হিসেবে নিয়োগ, ৮ বছরে জমাকৃত অর্থের দ্বিগুন মুনাফা প্রাপ্তি, হজ্ব প্রকল্প, ১৬ শতাংশ মাসিক মুনাফার অনুকুলে সঞ্চয় প্রকল্পসহ নানা প্রলোভনে তারা সদস্য বাড়াতে থাকে। প্রলোভনীয় নানা অফারের মাধ্যমে দুই বছরের মাথায় সংস্থাটির সদস্য ৪৪ হাজারে গিয়ে পৌছলে সমাজসেবা অধিদপ্তর তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা প্রদান করে। সে সময় অবস্থা বেগতিক দেখে তারা সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে এহসান সোসাইটি বাংলাদেশ নামে নতুন নামে তাদের কার্যক্রম আরো এগিয়ে নিয়ে যায়।

আল এহসান সোসাইটির সুফল সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার নামে তারা নতুন নামে দেশের বিভিন্ন জেলাতে সংস্থাটির বিস্তার ঘটাতে থাকে। বিভিন্ন প্রলোভনে মাগুরার সঞ্চয় প্রকল্পের অন্তত: ৫৫ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা দিয়ে সংস্থাটি দেশের অন্তত ৫৬ জেলায় নতুন নতুন কার্যালয় স্থাপন করে সেসব জেলাতেও এহসান মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি, এহসান রিয়েল স্টেট, এহসান পরিবহন নামে প্রতারণার নানা খাত খুলে বসে। যার অধিকাংশ প্রকল্পই এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের গৃহবধু রোখসানা বেগম জানান, তিনি ৪ লাখ টাকা এখানে লগ্নি করেছেন। কিন্তু গত ১০ মাস যাবত তাকে কোন মুনাফা দেয়া হচ্ছে না। প্রতিমাসেই একেকটি তারিখ দিয়ে তাকে ঘোরানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত মুনাফা পড়ে থাক, লগ্নিকৃত টাকা ফেরত পাবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

মাগুরা পৌর এলাকার সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ঈমাম, শিমুলিয়ার পীর সাহেবের দুই ছেলে খুবায়েত ও জুনায়েত আলীকে দেখে তিনি বিশ্বাস করে এখানে ১৯ লাখ টাকা লগ্নি করেছিলেন। কিন্তু এক বছরের মাথায় অবস্থা বেগতিক দেখে লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চান। কিন্তু তারা সেটি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ব্যবহৃত একখন্ড জমি তিনি নিজের দখলে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মাগুরা পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, এহসান সোসাইটির হাজার হাজার গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে তারা এখন লাপাত্তা। তিনি নিজেও রিটায়ারমেন্টের টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা সঞ্চয় দিয়ে এখন বিপদে আছেন।

এদিকে ক্ষুদ্র ঋণ বা ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন প্রয়োজন হলেও সংস্থাটি ওই অনুমোদন ছাড়াই এত বছর ধরে অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে মাগুরা জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলে প্রতিবারই নতুন নতুন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকরা কোন সুফলই পায়নি। গত ছয়মাস আগে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি এটির কার্যক্রম বন্ধ করে গ্রাহকদের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার সুপারিশ করলেও অজ্ঞাত কারণে তা কার্যকর হয়নি।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য জেলা এনজিও কোঅর্ডিনেটর আবদুল হালিম বলেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার উপযুক্ত কোন ভিত্তি সংস্থাটির নেই। তারপরও অনৈতিকভাবে তারা সেটি অব্যাহত রেখেছে। তবে অচিরেই এটি বন্ধ করে গ্রাহকদের অর্থ বুঝিয়ে দেয়া উচিত।

এহসান সোসাইটির অব্যবস্থাপনার বিষয়ে পুরাতন সদস্য এবং গ্রাহকদের অনেকেই সোসাইটির পরিচালক রবিউল ইসলামের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে দায়ি করে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন এমডির আপন ভাই আনোয়ারুল আজম, আবদুল আওয়াল, ভাইয়ের স্ত্রী হোসনে আরা আজম, নিকটাত্মিয় মাওলানা আইয়ুব, মাওলানা ইমরান আলি, আতাউল্লাহ, মাগুরা শাখার ম্যানেজার সেলিম হোসেনসহ সুযোগ সন্ধানি অনেকেই গ্রাহকদের অর্থ নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। যেকারণে দেশের বিভিন্ন জেলাতে কার্যক্রম চললেও মাগুরাসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলাতে অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে।

তবে এহসান সোসাইটির পরিচালক কাজি রবিউল ইসলাম বিরাজমান বিষয়টিকে সাময়িক সমস্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সারা বাংলাদেশে সোসাইটির কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলছে। কিন্তু রিয়েল স্টেটের ব্যবসাতে টাকা আটকে যাওয়ায় গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই এটির সমাধান করা হবে।

এদিকে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মাগুরার নতুন জেলা প্রশাসক মাহবুবর রহমান। প্রশ্ন হলো এতদিন পর কার্যক্রম বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে এমন নজির অনন্ত: দেশের কোথাও নেই। যুবক ও ডেসটিনি’র গ্রাহকরাও লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত পাননি। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে সতর্কাবস্থায় এগুতে হবে বলেও মনে করেন সচেতনমহল।

অপরদিকে যশোরে এহসান এস সোসাইটি, এহসান রিয়েল এস্টেট ও এহসান মাল্টিপারপাস নামে ৩টি কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ২৭০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জানুয়ারি ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« ডিসে    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

মাগুড়া সদর

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

জানুয়ারি ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« ডিসে    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

রাজনীতি

অর্থনীতি