মাগুরানিউজ.কমঃ

শফিক রেহমান রানা, মাগুরানিউজের একজন বিশেষ পাঠক। তার নানা মন্তব্য, মাগুরাকে নিয়ে তার ভাবনা আমাদের সবসময় মুগ্ধ করে। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ঘাড়ের পিছনের নার্ভ ছিড়ে যাওয়ার কারনে হাত পা অচল হয়ে গেছে রানার। বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রানা।
আজ রানার শুভ জন্মদিন। রানাকে ‘মাগুরানিউজ’ পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভকামনা।শফিক রেহমান রানার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে মাগুরাবাসী ও ‘মাগুরানিউজ’ পরিবার।
ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের কেবিনে পরিবার-স্বজন-বন্ধুদের নিয়ে আজ পালিত হলো রানার জন্মদিন।
রানার সুস্থতা কামনায় লিখেছেন নয়ন। সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে রানা কাকুকে (শফিক রেহমান রানা) দেখতে গিয়ে রানার ভালবাসার প্যাচপ্যাচানি লিখে দেবার অনুরোধ ও রানা পুত্র ঈয়াশের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে খান নয়ন লিখেছেন ‘মাগুরানিউজ’র পাঠকদের জন্য।
——-তোমার বাবা অসুস্থ, তুমি আল্লাহ‘র কাছে কি দোয়া করেছ?
ঈয়াশ- আমি বলেছি, বাবাকে ভাল করে দাওওও আল্লাহ (হাসপাতালে শফিক রেহমান রানা (রানা কাকুর) শয্যা পাশে আমার আর ঈয়াশের কিছু কথোপকথন)
-পুরানো একটা গল্প বলি, কোরবানির ঈদ। গরু কাটাকাটি ঘিরে বাপ-চাচাদের আড্ডা বসেছে বাড়ীর আঙ্গিনায়। আড্ডার ফাঁকে আব্বুর কাছে রানা কাকু আমার লেখালেখির ভীষণ রকম প্রশংসা করেছেন, সাথে আরো অনেক কথা। ঈদ শেষে সারাদিন পর যখন বাসায় ফিরি, দৃষ্টি বলল ভাইয়া রানা কাকু তো তোমার বিশাল ভক্ত। আব্বুর কাছে তোমার অনেক ভাল ভাল কথা বলেছে। আমি মুচকি হেঁসে ভাব নিলাম, ভাবখানা এ আর এমন কি? কিন্তু মনে মনে নিজের প্রশংসা শুনতে উদগ্রিব। লজ্জায় শুনতেও পারছি না। নিজের ভাল কার না শুনতে মন চাই বলেন!!
-আমার কাছে মধ্য দুপুর খুবই আশ্চর্যের। কারণ এই সময় সূর্য ঠিক মাথার উপর অবস্থান করে। এ সময় কারও ছায়া মাড়তে হয় না। হঠাৎ সব ছাপিয়ে গেল মধ্য দুপুরের এক ফোন কল। হাসপাতালের বেডে শুয়ে রানা কাকু আমাকে স্বরণ করেছেন। তিনি চিরচেনা হাসি মাথা কন্ঠে আমাকে তার শয্যা পাশে যেতে অনুরোধ করলেন…
-আমি হাসপাতালে রানা কাকুর শয্যা পাশে বসতেই কাকু আমাকে খুব নিচু স্বরে বললেন, ভাস্তে আমি তোমাকে ডেকেছি একটা কথা বলবার জন্য। আমার জন্য একটা ভালবাসার প্যাচপ্যাচানি লিখে দাওওও ।
আমার গলা ধরে এল, আমি কথা বলবার জন্য চেষ্ট করছি, আর পারছি না। এই স্বল্প জীবনে এতবড় ভালবাসার প্যাচপ্যাচানিতে যে বাধা পড়েছি আগে কখনও বুঝিনি!!
-ঈয়াশ, এই দেব শিশুর কথা হয়তো এতক্ষণে আল্লাহ‘র কাছে পৌছে গেছে। এখন বাকি আমার ভালবাসার প্যাচপ্যাচানি টুকু… হে পরম, এই অধমের ভালাবাসা রানা কাকুকে ছুঁয়ে যাক। তুমি আমার কাকুকে দ্রুতই সুস্থতার প্যাচে বেধে ফেল। সামনের দিনে কাকুকে নিয়ে নতুন কোন ভালবাসার প্যাচপ্যাচানি লিখতে চাই….
আমীন আমীন
খান নয়ন
অযথাই, খামখা
ছবিতে: রানা কাকু আর ছেলে ঈয়াশ (ঈয়াশ হয়তো বাবাকে নতুন কোন আবদারের কথা বলছে)

