মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুরে কলেজ শিক্ষকদের বাড়ীতে মাদক রেখে ফাঁসানোর মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ যোগানদাতা হৃদয় মাসুদ ওরফে কালামসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল। কলেজ শিক্ষক আঃ আওয়ালের সঙ্গে প্রতিবেশি হৃদয় মাসুদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় তিনি তাকে ফাঁসানোর জন্য সোর্সের (তথ্যদাতা) মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় অবৈধ মাদক কিনে শিক্ষকের ঘরে রেখে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। মাগুরার ডিবি পুলিশের তদন্তে এসকল তথ্য উঠে এসেছে। এ মামলায় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ড্রাইভারসহ ৮জনকে আসামী করে গত ১৪ জুন ডিবি পুলিশ মাগুরার বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
অভিযোগপত্রে নাম আসা অন্য ৮ আসামী হলেন মোঃ আতিয়ার হোসেন শেখ (৪১), সাগর বিশ্বাস(২২), মোঃ হাসান বিশ্বাস ওরফে নবাব(৩৪), ইকবাল হোসেন দোয়েল(৩৩), মোঃ বিপ্লব হোসেন(৩৫), মোঃ নান্নু বিশ্বাস (৩৪), সুজন বিশ্বাস (৩৪) ও রবিউল ইসলাম ওরফে টুটুল(৪৩)।
এদের মধ্যে ১নং, ২নং ও ৩নং আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে তারা মুল পরিকল্পনাকারী সকল ষড়যন্ত্রের ও বিকাশে অর্থ লেনদেনসহ মাদক ক্রয় করে শিক্ষককে ফাঁসানোর কথা স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ৪নং আসামী মূল পরিকাল্পনাকারী হৃদয় মাসুদ ও ৭নং আসামী মোঃ নান্নু বিশ্বাস স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে জামিনে আছে।
অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে ড/অ ইস্যুতে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার বিবরণে প্রকাশ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ কলেজ শিক্ষকের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী হৃদয় মাসুদ ওরফে কালাম (নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের ড্রাইভার) মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সোর্সসহ অন্যান্য আসামীদের মাধ্যমে অবৈধ মাদক ক্রয় করে তা কলেজ শিক্ষকের ঘরে লুকিয়ে রেখে মাগুরার ডিবি পুলিশকে সোর্স দিয়ে মোবাইলে এ তথ্য দেয়।
পুলিশ এ তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে এসকল মাদকসহ কলেজ শিক্ষককে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি পুলিশের সন্দেহ হলে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ ইনফর্মারকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হৃদয় মাসুদের পরিকল্পনাসহ সকল ষড়যন্ত্রের ও অন্যন্য আসামীদের নাম স্বীকার করে। কলেজ শিক্ষক নির্দোষ প্রমানিত হওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে তাকে বাড়ীতে পৌছে দেয় যার মামলা নং ৪৪/২২।

