মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রাম থেকে পুলিশ কর্মকর্তা লাবনী আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে লাবনী আক্তারের নানা মৃত কুদ্দুস মাষ্টারের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, লাবনী আক্তারের বাবা মো. শফিকুল আজম উপজেলার বরালিদাহ গ্রামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নাকোল রাইচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক। লাবনী আক্তারের স্বামী মাগুরা সদর উপজেলার হাজীপুর গ্রামের তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে।

লাবনী আক্তারের বাবা শফিকুল আজম বলেন, বুধবার গভীর রাতে তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে ডাকাডাকির পরেও দরজা না খুললে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তার দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি বলেন, গত ১৭ জুলাই এক সপ্তাহের ছুটিতে লাবনী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গ্রামের বাড়িতে এসে সে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে তার নানা বাড়িতে ছিলো।
আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংসারিক বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে লাবনীর কলহ চলে আসছিলো। স্বামীর সাথে বনিবনা হচ্ছিল না বলেই আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। চৌকস পুলিশ অফিসার লাবনী আক্তার ৩০ তম বিসিএস এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) কামরুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, লাবনী আক্তারের স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করেছেন। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন লাবনী আক্তার।’
কামরুল হাসান আরো জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় লাবনীর গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

