মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
সরকার জনসাধারণকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করলেও মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের কর্মকর্তাদের তড়িৎ নির্দেশের কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ত্রিশটিরও বেশি গাছ কেটে নিতে বাধ্য হলেন সদর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামের কুমার নদীর পারে বসবাসরত অধিবাসীরা। কেটে নেওয়া গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মূল্যবান মেহগনি, বেল, কাঁঠাল, জামসহ অন্যান্য গাছ।
পরিবেশের সাথে সংশ্লিষ্টরা অনেকেই মনে করছেন এভাবে হঠাৎ করে গাছ কেটে নেওয়াতে পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে এবারের পরিবেশ দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান-‘যেখানে যতুটুকু জায়গা আছে গাছ লাগান।’
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে আশ্রয়হীনদের ঘর দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে কুমার নদের পাড়ে যেখানে গাছ ছিল সেই জায়গা চিহ্নিত করা হয়। যদিও জায়গাটি বংশ পরম্পরায় ভোগদখল করে আসছে মৃত আইন উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেন, আনোয়ার হোসেন এবং সুলতান হোসেন। এই পরিবারের সদস্যরাই সেখানে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করে বড় করেছে।
কিন্তু সম্প্রতি উল্লিখিত জায়গা খাস বলে শ্রীপুর উপজেলা এসিল্যান্ডসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে জায়গাটি দখলে নেন। এ ঘটনার পর ২০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা গাড়ি নিয়ে সেখানে গিয়ে ভোগদখলে থাকা পরিবারের সদস্যদের মৌখিকভাবে গাছগুলো কেটে নিতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় নিজেরাই, কেটে নেবে বলে জানান।
উপজেলা প্রশাসনের এমন নির্দেশের কারণে ভোগদখলে থাকাদের মধ্যে একধরনের ভীতি তৈরি হয়। বিধায় পরের দিন ভোগদখলে থাকা পরিবারের সদস্যরা চরম অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিজ খরচে তড়িঘড়ি করে গাছগুলো কেটে ফেলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কাটা গাছের বিভিন্ন অংশ রাস্তার ধারেই পড়ে থাকতে দেখা যায়। জানা গেছে যুগ যুগ ধরে কুমার নদীর পাড়ের এই জমিতে একই সংস্কৃতির মানুষ বসবাস ও চাষাবাদ করছে। অনেকেই জমিতে গাছগাছালি লাগিয়েছেন। তবে অনেকের জানাও নেই এই জমি খাস কিনা। কিন্তু হঠাৎ করেই বিনা নোটিশে এবং কোনো প্রকার গণশুনানি ছাড়াই বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজনকে নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা নিয়ে সারঙ্গদিয়া গ্রামের কুমার নদীর পাড়ে বসবাসরত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রামবাসীর বক্তব্য, আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনে কেউই বিপক্ষে নয়। কিন্তু স্থানীয়দের সমস্যা না শুনে বসতির মাঝে হঠাৎ করেই অচেনা অজানা লোকদের বসিয়ে দিয়ে এক ধরনের বিরূপ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
তবে কেন গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হলো-এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা এসিল্যান্ড শ্যামানন্দ কুন্ডুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এলাকাবাসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি আবেদন পত্র পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে ভূমিহীনদের জন্যে ঘর বরাদ্দ। এটি বাস্তবায়নে আমরা সর্বদা সচেষ্ট রয়েছি বলে তিনি জানান।


