মাগুরানিউজ.কমঃ
নতুন রূপে ফিরছে শ্রীপুর। শ্রীপুর সদরের কুমার নদের ব্রীজ সংলগ্ন সরকারি জায়গা ও নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকান ঘরগুলি অবশেষে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন পর হলেও সকল বাঁধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে রবিবার সকালে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আহসান উল্লাহ শরিফী স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, চেয়ারম্যান ও জনগনের সহযোগিতায় কুমার নদের ব্রীজ সংলগ্ন সরকারি জায়গা ও নদী দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকান ঘরগুলি অবশেষে উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কুমার নদের ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের আশেপাশে এক শ্রেণির প্রভাবশালি দখলদাররা অবৈধভাবে সরকারি জায়গা ও নদী দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ পথে আয় করে আসছিল আবার কেউ কেউ নিজেই দোকানঘর নির্মান করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাচ্ছিল।
জায়গাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় একদিকে যেমন সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল তেমনি নদী দখল করে দোকান ঘর নির্মান করায় উপজেলা সদরের সৌন্দর্য বর্ধন ও জনগনের চলাচল চরমভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইন-শৃঙ্খলা সভায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হলেও কোন সমস্যা সমাধানের উপায় ইতিপূর্বে বের হয়নি। বিভিন্ন ধরনের বাঁধা-বিপত্তি ও সুপারিশের কারনে শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত পর্যন্তই গ্রহন করা হতো, কিন্তু কার্যকরী হতোনা।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ শরিফী শ্রীপুর উপজেলাতে যোগদানের পর মাসিক সভায় অন্যান্য সদস্যগন বিষয়টি নিয়ে তাঁকে অবগত করলে তিনি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
অবৈধ দখলদারদের মধ্যে মোদাচ্ছের খলিফা ওরফে মিলুক খলিফা বলেন, এ জায়গাটি পড়ে থাকায় আমি দুটি দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দিয়েছিলাম। অল্প সময়ে মধ্যে দোকান ঘর সরানোর সরকারি নির্দেশনা পেয়ে দোকানের মালামাল ঠিকমত সরাতে পারিনি। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।
শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মসিয়ার রহমান বলেন, নদী ও সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ দোকানঘর নির্মান করে এক শ্রেণির লোকেরা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে আসছিল। নদীর কূল, নদীর ব্রীজ ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভটির আশেপাশে যত্র-তত্র দোকান নির্মান করে উপজেলা সদরের পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছিল। আমি এবং অতীতের অনেক কর্মকর্তাগনও অনেকবার চেষ্টা করেও এর কোন সমাধান করতে পারিনি। ইউএনও মহোদয়ের এ উচ্ছেদ অভিযানটি নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। অভিযানটি কার্যকর হওয়ায় জনমনে চরম স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, উপজেলা সদরের এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি বহুদিন ধরেই অবৈধ দখলদাররা দখল করে রেখেছিল। অবৈধ স্থাপনার কারনে লোকজনের চলাচল ও শ্রীপুরের সৌন্দর্য চরম ভাবে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছিল। মাসিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অবৈধ দখলদারদের দোকান ঘর অপসারনের জন্য পূর্বেই অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এবিষয়ে কোন কর্ণপাত না করায় এ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে উপযুক্ত পরিবেশ ও ব্যবসার জন্য নির্ধারিত জায়গা বের করতে পারলে উচ্ছেদকৃত দোকানদারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।


