মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে ভারতে পাচারের অভিযোগে আবদুল আলিম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আবদুল আলিম মাগুরার আড়পাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। অন্যদিকে পাচারের শিকার মেয়েটিকে ভারতের হাওড়া পুলিশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি শেলটার হোমের কাছে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সীমা বিশ্বাস অন্যদিনের মতোই প্রাইভেট পড়ার জন্য গত ৪ মার্চ সকালে মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল আলিমের বাড়িতে যায়। কিন্তু মেয়েটি দুপুরের পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজা শুরু করে। সীমার বাবা স্থানীয় গ্রামপুলিশ সুবাস বিশ্বাস প্রাইভেট শিক্ষক আবদুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মেয়ে প্রাইভেট পড়ে ফিরে গেছে বলে জানায় ঐ শিক্ষক।
এদিকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর ভারতের হাওড়া জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট অনামিকা দলপতি সুবাস বিশ্বাসের মোবাইলে ফোন করে সীমাকে হাওড়া স্টেশনে পাওয়ার খবর জানায়। হাওড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমাকে উদ্ধারের পর স্থানীয় এসএমএন নামে একটি শেলটার হোমের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমা সেখানেই অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
সীমার বাবা সুবাস বিশ্বাস গণমাধ্যমে জানান, সীমা ঘটনার দিন প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পর মাদ্রাসা মাস্টার আবদুল আলিম তাকে মাগুরা শহরে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও দুটি ছেলে ছিল। তারা মাগুরা শহরের একটি ওষুধের দোকানে নিয়ে পানির সঙ্গে কিছু খাওয়ানোর পর সীমা অচেতন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পরে চেতনা ফিরে এলে সে নিজেকে হাওড়া স্টেশনে দেখতে পায়। এ সময় বিপ্লব নামে এক যুবকসহ দুজন তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সীমা চিৎকার দিলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
সীমার বাবা সুবাস বিশ্বাস হাওড়া প্রশাসনের ওই ম্যাজিস্ট্রেট ও সীমার কাছ থেকে এসব কথা জানতে পেরেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে শালিখা থানার ওসি রবিউল হোসেন জানান, হাওড়া প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট অনামিকা দলপতির সঙ্গে কথা বলে সীমাকে উদ্ধারের বিষয়টি জানা গেছে। তাদের প্রাথমিক বক্তব্য এবং মেয়েটির বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুল আলিমকে গ্রেফতারের পর গতকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভারতের হাওড়া প্রশাসনের হেফাজতে থাকা সীমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।


