মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
আজ বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম শ্রীপুরের সন্তান সাকিন
- শ্রীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি ও লিফলেট বিতরণ
- শ্রীপুরে দু-দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩, দোকানঘর ও বাড়িঘর ভাঙচুর
- শ্রীপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত
- শ্রীপুরে কোরবানির জন্য কেনা গরু চুরি
- শ্রীপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
- শ্রীপুরে ধর্ষণ মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার
- শ্রীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ১
- শ্রীপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন
- সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ
শালিখায় বিভিন্ন প্রজাতির নার্সারি করে ভাগ্য বদল নওশের আলীর।
কর্মসংস্থানের জন্য গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইট-পাথরে মোড়া শহর ঢাকায়। বিভিন্ন কোম্পানির চাকরি করে একপর্যায়ে আর্থিক টানাপোড়নে কারনে বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে শুরু করেন নার্সারি। রাত-দিন পরিশ্রম করে দাঁড় করান নার্সারিটিকে। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত এলাকায়। গল্পটা মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের নওশের আলী।
নওশের আলী বলেন, ‘তরুণ বয়সে সংসারের অভাব-অনটনের কারণে ঢাকা শহরে পাড়ি দিই। শুরুতে পোশাক কারখানায় চাকরি করি।তারপর সেটা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির চাকরী করি।একপর্যায়ে আর্থিক টানাপোড়নে কারনে বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে শুরু করেন নার্সারি বেকার অবস্থায় ফিরে আসি গ্রামের বাড়িতে। জীবনযুদ্ধে হার না মেনে পরিচিত এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বাড়ির পাশের পতিত ১০ শতক জমিতে গাছের চারা রোপণ করি।’
নওশের আলী আরও বলেন, ‘শুরুতে জায়গার সংকটসহ নানান সমস্যায় পড়তে হয়। নার্সারি ব্যবসায় ধীরে ধীরে সফলতা আসতে শুরু করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে চারা রপ্তানি করছি তুরস্ক, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশে চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন আকারে অনেক বড় হয়েছে নার্সারিটি।
সরেজমিনে দেখা যায়,মাগুরার শালিখায় শতখালী গ্রামে আরশী আজিম নামে তিন বিঘা জমির ওপর বিশাল এক নার্সারি। বিভিন্ন জাতের গাছ দোল খাচ্ছে বাতাসে। নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে বিদেশি জাতের আম, মাল্টা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস, ফুলসহ দেশি তিন শতাধিক জাতের চারা। উন্নত জাতের ফল, ফুল ছাড়াও এখানে আছে ঔষধি গাছের চারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নওশের আলী নতুন নতুন জাতের চারা উৎপাদন করে এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। একজন প্রতিষ্ঠিত নার্সারি মালিক হয়েও এখনো তিনি নিজ হাতে চারার পরিচর্যা করেন। কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছেন। নার্সারিতে প্রতিদিন ১৫-২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নার্সারি থেকে আয় করছেন নওশের আলী।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলমগীর হোসেন বলেন,নওশের আলীর নার্সারি এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ‘শুরু থেকে সফল ওই নার্সারির মালিককে আমরা পরামর্শ দিয়ে আসছি। সফলতার জন্য আমরা তাঁকে ক্রেস্টও দিয়েছি। এই নার্সারির উন্নত জাতের ফল ও ফুলের চারা বিদেশে রপ্তানি করে যাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারেন, সে জন্যও নানান ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।

