মনিরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক-
আজ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬ ইং
loading....
শিরোনাম:
- শ্রীপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা
- শ্রীপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ১ জনের মৃত্যু! আহত-৬
- শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও'র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময়
- শ্রীপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- নদীর বুকেই কেটেছে জীবনের ছয়টি দশক, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও থামেনি রনজিতের বৈঠা
- শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- মাগুরায় প্রতিবন্ধী ও স্বামীহারা ক্যান্সার আক্রান্ত সাহিদা বেগমের ধুকে ধুকে মৃত্যুর দিন পার
- শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের আকষ্মিক পরিদর্শন
- শ্রীপুরে বিদ্যুৎপৃষ্টে রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু
- শ্রীপুরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন: পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী, এলাকায় চাঞ্চল্য
এক সময় কদর ছিল মাটির তৈরি, হাড়িপাতিল, কলস, সরা ও বাসনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় তৈজসপত্রের। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এসকল মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য।
প্লাস্টিক আর এ্যালমুনিয়ামের ভিড়ে মাটির তৈজসপত্র তেমন চাহিদা নেই বললেই চলে। তাই জীবন ও জীবিকার জন্য পেশা বদলাচ্ছে অনেকে। মাগুরা’র শালিখা উপজেলার দরিশলই ছান্দড়া, বয়রা, গোবরা, শতপাড়া, গঙ্গারাপুর এবং পাশ্চাত্য রাঘবদাইড়, কেচুয়াডুবীসহ অনেক গ্রামের পাল পাড়ার বেশ কিছু পরিবার এখনো আকড়ে আছে এই শিল্পে।
এই পেশা থেকে কোন রকম আয় করে পরিবারের খরচ চালাচ্ছেন এখানের মৃৎশিল্পীরা। শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া থেকে এক কিলোমিটার গেলেই দরিশলই পালপাড়া। শতাধিক পাল পরিবার বসবাস করে এখানে।এখানে পালেরা নিপুন হাতের ছোঁয়ায় তৈরি করে তৈজসপত্র, রয়েছে মাটির তৈরি হাড়ি, সরা, কলস, ফুলের টব, দেবদেবীর মূর্তিসহ আরো অনেক কিছু।
এক সময় মাগুরা জেলার বাইরেও এ সকল মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর ছিল অনেক। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প। পরিবর্তে স্থান দখল করেছে স্টেইনলেস স্টিল, প্লাস্টিক ও এ্যালমুনিয়ামের তৈরি সরঞ্জাম। তাই সচ্ছলতা না থাকায় জীবন-জীবিকার তাগিদে এ শিল্পের আশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকে।
সরেজমিনে পাল পাড়ায় গেলে সুবাস কুমার পাল, নির্মল পাল (ভাষ্কর),রনজিৎ পালসহ অনেকে জানান, আগে মাটি এদিক ওদিক সহজেই পাওয়া যেত কিন্তু এখন মাটি কিনে নিতে হয় তাছাড়া এসকল জিনিসপত্র পোড়ানোর কাঠখড়ির দাম বেশি তাই বেশি লাভ হয় না। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও সরা ও বাসন গড়ার কাজে সর্বক্ষণ সাহায্যে করে থাকে।
আয়ের জন্য অন্য কোন উৎস না পেয়ে জীবিকার তাগিদে অনেকে পুরাতন এই পেশায় ধরে রেখেছে বলে জানান। কিন্তু কাঁচামালের দাম বেশি বাড়ায় আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে তারা। তাই এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা প্রত্যাশা এসকল মৃৎশিল্পীদের।
নিত্য প্রয়োজনীয় তৈজসপত্রের ব্যবহার কমলেও বেড়েছে পোড়ামাটির গৃহসজ্জার চাহিদা। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আবারো হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে এমনটাই মনে করছেন শালিখা উপজেলার মৃৎশিল্পীরা।

