মাগুরানিউজ.কম:
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
পেশা পরিবর্তনের মাধ্যমে আগামী ৭মার্চ এর মধ্যে মাগুরাকে ভিক্ষুকমুক্ত করা এবং ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ১০২১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার রাতে মাগুরা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মাগুরা জেলা প্রশাসক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় রাত ১০টা পর্যন্ত চলা মতবিনিময় সভায় প্রকৃত ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করণ এবং তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিবৃত করার নানা উপায় সমূহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মনিবুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার আজিম আহমেদ, পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রোস্তম আলি প্রমুখ।
দেশের অনেক জেলা ভিক্ষুক মুক্ত হলেও মাগুরা জেলার কিছু মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির মতো অমর্যাদাকর কাজে জড়িয়ে রয়েছে। অমর্যাদাপূর্ণ এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের পুনর্বাসন এবং সেখান থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে গত বছর জেলার চারটি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৬৪জন ভিক্ষুককে চিহ্নিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণের ৫ দিনের বেতন এবং কর্মচারীদের ১ দিনের বেতন, সরকারী অন্যান্য অফিসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণের ১ দিনের বেতন, শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় দানশীল ব্যাক্তিদের দান, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য খাত থেকে ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২শত ৬৫ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়। ইতিমধ্যে তাদের পুনর্বাসনের জন্যে ওই তহবিলের প্রায় ৮৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে গরু, ছাগল, ভ্যান, বিশেষ রিক্সা, হাস-মুরগী, নগদ অর্থ প্রদান, দোকান নির্মাণে সহায়তা, দোকানে সামগ্রি ক্রয়ে সাহায্য, ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, ঘর নির্মাণে সাহায্য, সেলাই মেশিন প্রদান, ওয়েট মেশিন ও ভেড়া প্রদানের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রকারের সুবিধা দেওয়া হয়।
তথ্যমতে, পুনর্বাসনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মাগুরাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সুবিধাভোগিদের তদারকির কাজ চলতে থাকে। কিন্তু চিহ্নিত ভিক্ষুকদের কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করলেও বাকিরা এখনো ভিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত রেখেছে বলে জেলা প্রশাসনের তদারকিতে ধরা পড়ে। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ওই সমস্ত মানুষদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাগুরাকে কার্যকর অর্থেই ভিক্ষুকমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারীতে ১০২১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে মাগুরায় নজির স্থাপনের জন্য সকলের সহায়তা কামনা করেন জেলা প্রশাসক মো: আতিকুর রহমান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত জেলার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের পাশাপাশি উপস্থিত অন্যান্যরাও হাত তুলে কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

