মাগুরানিউজ.কম:
নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় মাগুরা পৌর এলাকার বাটিকাডাঙ্গা সড়কটির অনেকাংশই গত কয়েক বছরে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছেন।
মাগুরা শহরের নতুন বাজার থেকে ছানা বাবুর বটতলা হয়ে শিবরামপুর, নড়িহাটি, আলিধানিসহ অন্তত দশটি গ্রামের কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের সংক্ষিপ্ত যোগাযোগের সহজতম পথ হচ্ছে এই বাটিকাডাঙ্গা সড়কটি। আর এই সড়কটির পাড়েই রয়েছে প্রায় শতাধিক পরিবারের স্থায়ী বাস। কিন্তু গত কয়েক বছরে অব্যাহত ভাঙ্গনের কারণে নদী তীরবর্তী এই ২শ মিটার সড়কটির কোথাও সম্পূর্ণ, কোথাওবা কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে তীরবর্তী পরিবারগুলোর স্থায়ী বসতঘর।
অন্যদিকে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অপর প্রান্তের সাধারণ মানুষকে মাগুরা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এলাকাবাসী দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিলে চলে আসলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিভাগটির অবহেলায় মাত্র ২শ মিটারের এই সড়কটি বেড়িবাঁধ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অব্যাহত ভাঙ্গনের কারণে বাটিকাডাঙ্গা গ্রামটিই এখন হুমকির মুখে। গ্রামবাসী পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহলের কাছে বছরের পর বছর ধর্ণা দিলেও তাদের সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত এক মাস ধরে বাঁধটি নির্মাণ করে আসছেন। ইতোমধ্যে বাঁধের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তারপরও ক্ষতি ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম হিরক বলেন, বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের নবগঙ্গা নদীর পাড়ের রাস্তাটি ছিল পায়ে চলা পথ। ২০১০ সালের দিকে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তাটিসহ মোট ৩টি রাস্তার কাজ করা হয়। কিন্তু দুই বছরের মাথায় সেখানে ভাঙ্গন দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙ্গন রোধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষেরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অন্যদিকে এলাকাবাসী বাঁধের নীচ থেকে মাটি সংগ্রহ করায় পুরো সড়কটিই নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, নদী ভাঙ্গন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তাছাড়া নবগঙ্গা নদীর পাড়ের সড়কটি ভারি যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। তারপরও সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণ করায় ভারি যানবাহন চলাচলে ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় নদী তীরবর্তী এলাকার ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি-সংগ্রহ।



