মাগুরানিউজ.কম:
ভুল চিকিৎসায় মাগুরা ২৫০ শষ্যা হাসপাতালে রবিবার মনি মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে রোগীর স্বজনরা। মনি মিয়া মাগুরা শহরতলীর পারন্দুয়ালী বিশ্বাস পাড়ার আনসার বিশ্বাসের ছেলে। তার মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৭ দিনের মধ্যে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে দুপুর ৩টার দিকে লাশ নিয়ে যায় এলাকাবাসী।
নিহতের ছেলে রিমন বিশ্বাস অভিযোগ করেন- ডায়াবেটিক রোগ নিয়ে শনিবার রাতে তার পিতা মনি মিয়া মাগুরা ২৫০ শষ্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু রোববার বেলা ১২টার দিকে কর্তব্যরত নার্স শিরিন পারভিন জি-পেথেডিন নামের একটি ইনজেকশন রোগীর হাতের শিরায় দেয়ার কথা থাকলেও সেটি নাভিতে পুশ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তার পিতা মারা যায়।
নিহতের নিকটাত্মীয় রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় মনি মিয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি সুস্থ ছিলেন এবং খাবার খাচ্ছিলেন। বেলা ১২টার দিকে কর্তব্যরত নার্স এসে ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী একটি ইনজেকশন হাতে না দিয়ে নাভিতে দেয়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে মনি মিয়া মারা যান। ভুলভাবে ইনজেকশন দেয়ায় মনি মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে।
অন্য দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
মাগুরা সদর হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ রোকোনুজ্জামান জানান, মনি মিয়ার ডায়াবেটিকসহ হার্টের সমস্যা ছিল। এ জন্য তার চিকিৎসা চলছিল। জি-পেথেডিন নামের ইনজেকশন তার হাতে দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু কর্তব্য নার্স সেটি তার নাভিতে পুশ করায় রোগীর স্বাজনরা অভিযোগ করেছে। কিন্তু তা সঠিক নয়। ইনজেকশন হাতে বা নাভিতে যেখানেই দেয়া হোক এতে রোগী মারা যাওয়ার কথা না। মনি মিয়া কেন মারা গেছে এটি তদন্ত করলে বোঝা যাবে।
মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে মনি মিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী আহসান হাবিব বলেন, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


