মাগুরানিউজ.কমঃ
কোরবানির ঈদের পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মাগুরার প্রায় ১১ হাজার খামারি। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কমে যাচ্ছে গরুর দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে গরুর দাম। খামারিদের অনেকেই শুধু এই কোরবানি ঈদে লাভের মুখ দেখার আশায় ছিলেন।
সেই সঙ্গে খামারিদের বিপদ বাড়িয়েছে সড়কের নাজুক অবস্থাও। যার কারণে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটে পশু পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারিরা। এ ছাড়া বেহাল সড়কের কারণে ট্রাক ঢাকায় পাঠাতেই সময় লাগছে ১৫ ঘণ্টারও বেশি। ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে পশুগুলো। পাশাপাশি রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। তাই এভাবে তাদের পক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রামে গরু নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ কারণে কোটি কোটি টাকার গরু-ছাগল ও ভেড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার প্রায় ১১ হাজার খামারি এ বছর প্রায় ১৬ হাজার গবাদি পশু পালন করেছেন।
খামারিরা জানান, ভালো দাম পাবার আশায় তাদের অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পশু সম্পদ বিভাগের সহায়তায় প্রস্তুত করেছেন একেকটি গরু। কিন্তু সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং নেপাল থেকে গরু আমদানি করায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হাটে প্রত্যেকটা গরুর দাম ১০-১৫ হাজার টাকা কম বলছে। ভারত থেকে গরু আসার কারণে গরুর দাম কমে গেছে। আমরা তো হতাশ এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।
একাধিক খামারি বলেন, দুই মাস আগে যে দামে কিনেছি সেই দামও উঠছে না। সরকারের কাছে অনুরোধ ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ হলে আমরা খামারিরা বেঁচে থাকব। ভবিষ্যতেও গরু খামার করার আশা আমাদের থাকবে।
মাগুরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কানাই লাল স্বর্ণকার বলেন, শিক্ষিত বেকার, যুবক এবং কৃষক এই পেশার সাথে যুক্ত হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং তারা লাভবানও হচ্ছে। অবিলম্বে বিদেশি গরুর আমদানি বন্ধ করা না হলে অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনশীল এই খাতটি থেকে খামারিরা সরে আসবে। এতে করে এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত বেকার ও যুব সম্প্রদায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। যা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


