মাগুরায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হেলমেট পরেই কাটে দিন

মাগুরানিউজ.কমঃ

বিশেষ প্রতিবেদক-

ঝুকিপূর্ণ কাজ সাথে ঝুকি নিয়ে বসবাস, এভাবেই দিন কাটছে মাগুরার ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। ভূমিকম্প, ভূমিধস, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্যোগে সবার আগে যারা দৌড়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ান, তারাই আজ ঝুঁকির মুখে। ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশের ধস ঠেকাতে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই ঝুকি এড়াতে হেলমেট পরেই থাকেন এমনটাই দাবি এখানকার কর্মীদের।

মাগুরা জেলা শহরের ভায়না এলাকায় ১৯৬৮ সালে নির্মিত মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসে গিয়ে পাওয়া গেছে এ করুন চিত্র। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় অর্ধশত বছর আগে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন এ অফিসে কর্মরতরা।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমে জানান, অফিসের দ্বিতল ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬৮ সালে। নির্মাণের পর থেকে রং করা ছাড়া ভবনটির তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্রমেই এর অবকাঠামো দুর্বল হয়ে ভবনটি বর্তমানে ধসে পড়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বহুবার জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া গত বছর গণপূর্ত বিভাগের একটি দল পরিদর্শন শেষে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভবনটির নিচতলায় রয়েছে স্টেশন অফিসারের অফিস কক্ষসহ ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রাখার জায়গা ও দ্বিতীয় তলায় কর্মকর্তা-স্টাফদের ব্যারাক। যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়মিত বসবাস করতে বাধ্য হন ২৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অন্য দুটি কক্ষ ব্যবহৃত হয় যথাক্রমে খাবারের ঘর ও রান্নাঘর হিসেবে। ভবনের প্রতিটি কক্ষের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, দ্বিতীয় তলার ছাদসহ কার্নিশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যারাকে অবস্থানরতদের দুর্ভোগের মাত্রা বর্ষাকালে আরো একধাপ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই ব্যারাকের রান্নাঘরসহ বিভিন্ন জায়গার ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়তে শুরু করে। তখন বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পেতে সেখানে পলিথিন ব্যবহার করা হয়।

ফায়ার সার্ভিসের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বসু মাগুরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছে। আর্থিক বরাদ্দ পেলেই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: