মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার হাত পাখা তৈরির কারিগরদের যেন বাতাস খাওয়ার সময় নেই। গরমে মানুষকে একটু শান্তির পরশ দিতে দিন রাত পরিশ্রম করে তৈরি করছেন তালপাখা কারিগররা। গরম শুরুর সাথে সাথে তাদের কাজ বেড়ে গেছে। তাল পাখা তৈরি তাদের পেশা ও বানিজ্যিক ভিত্তিতে করে থাকে।
মাগুরার বাটিকাডাঙ্গা এলাকার পাখা তৈরি কারিগররা বলেন, গরম পড়লেই পাখা পল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। যেন কথা বলার সময় তাদের নেই। শরীর দিয়ে নোনতা পানি বের হলেও নিজেরা পাখা দিয়ে বাতাস খাওয়ার সময় নেই তাদের। কেউ বা পাতা কেটে সাইজ করছে, কেউ সেলাই করছে আবার কেউ বা পাখা তৈরি করছে কেউ আবার প্রস্তুত হওয়া পাখাগুলো বিক্রির জন্য বোঝা বাঁধছে।
প্রতিটি বাড়িতে পাখা তৈরি কাজে এত ব্যস্ত যে কারও কথা বলার সময় নেই। কাজের চাপে অনেকে সকালে ভাত খায় আর রাতে খায়। কাজের চাপের কারনে তারা ভাত খাবার পর্যন্ত সময় পায় না।
জেলার শিবরামপুর, নিজনান্দুয়ালী, শক্রুজিৎপুর, বিনোদপুর, পারিয়াট প্রভৃতি গ্রামে তালের হাত পাখা তৈরি হয়। এসব গ্রামে শতাধিক পরিবার জড়িত রয়েছে পাখা তৈরির সঙ্গে। প্রথমে তাল পাতা কেটে রোদে শুকিয়ে তারপর তার সঙ্গে সুতা দিয়ে বাঁশের শলাকা ও রং করে তৈরি করা হয় তালের হাত পাখা। ফাল্গুন থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত পাখার মৌসুম। একজন শিল্পী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরিতে খরচ পড়ে গড়ে ১০ টাকা। বিক্রি হয় পাইকারী ১৫ টাকা এবং খুচরা ২০ টাকা। অন্য জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে পাখা কিনে নিয়ে যায়।


