মাগুরানিউজ.কমঃ
রাজীব মিত্র জয় –
”মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম এখন কার্যকরি মডেলে পরিনত হয়েছে।ক্রমাগত সফলতার পর ‘মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড‘ কমিটির প্রচেষ্টা এখন একটাই, অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্নে তথা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। আর সেলক্ষে পরিচালিত কার্যকরী তৎপরতা বিষয়টিকে মাগুরার গণমানুষের সামাজিক আন্দোলনে পরিনত করেছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে লিগ্যাল এইড স্বেচ্ছাসেবাকর্মী। সেবা কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ছে জেলার প্রত্যন্ত থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাসি ফুটছে অগুনতি সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের মুখে। ক্রমেই দেশজুড়ে আলোচিত ও অনুসরনীয় হয়ে উঠছে ‘মাগুরা মডেল‘ লিগ্যাল এইড কার্যক্রম।”
যেকোনো উদ্যোগকে সফল করতে জনগনের অংশগ্রহণ অতিব জরুরী। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা তথ্য পৌছে দিতে প্রয়োজন সেবাকর্মী। আর সে কর্মীরা যদি হন প্রশিক্ষিত ও স্বউদ্যোগী তাহলে সে উদ্যোগের সফলতাও নিশ্চিত। মাগুরা লিগ্যাল এইডের ক্ষেত্রে সেটিই ঘটেছে।তৃনমূল পর্যায়ে ‘লিগ্যাল এইড’র সেবা তথ্য পৌছে দিতে জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে স্থানীয় মানুষদের সাথে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চলছে একের পর এক বিশেষায়িত কর্মশালা। যেখানে প্রচেষ্টা উপস্থিত প্রতিটি নাগরিককে বিষয়টির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করিয়ে স্বউদ্যোগী স্বেচ্ছাকর্মী হতে অনুপ্রানীত করে তোলা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সেবাকর্মী। ফলে বিষয়টি গণমানুষের সামাজিক আন্দোলনেও পরিনত হয়েছে। আর সেকারনে সফলতাও মিলছে আশাতিত।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য জানা গেছে, চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে জেলার ৪টি উপজেলা ছাড়াও জানুয়ারী থেকে নভেম্বরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ১৮টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি কর্মশালায় স্থানীয় ধারনক্ষমতা অনুযায়ী সর্বনিম্ন অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ জন। যোগফলে সংখ্যাটা ১৫হাজার ছাড়িয়েছে।
অপরদিকে ২০১৬ সালে যেখানে ‘লিগ্যাল এইড’ সেবাপ্রার্থীর সংখ্যা ছিলো ২০১ জন, ২০১৮ সালে তা বেড়ে নভেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৭৫০ জন ছাড়িয়েছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সুত্রে আরো জানা গেছে, শুধু আইনগত সহায়তা নয়, ‘লিগ্যাল এইড’ সেবাপ্রার্থীর আদালতে যাওয়া আসা ও দুপুরের খাবারের জন্যেও অর্থ প্রদান করা হয়। যা স্থানীয় ভাবে সংগৃহিত ও দেশের মধ্যে প্রথম ও একমাত্র মাগুরা।
আর এ সফলতার মূল কান্ডারী- মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান। আশাজাগানিয়া এই মানুষটির নানামুখি উদ্যোগী কর্মকান্ডে মাগুরার আইনী সেবা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জনবান্ধব হিসাবে সুখ্যাতি পাওয়ার পাশাপাশি অনুসরনীয় মডেল হয়ে উঠেছে।
মাগুরা জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান, বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান মাগুরা নিউজকে জানান, ‘লিগ্যাল এইড মানে শুধু আইনি সহায়তা নয়, এটা একটি অধিকার। প্রতিটি মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গরীব, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষ যেন আইনি প্রতিকার পেতে পারে ও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে, মামলা পরিচালনার খরচ নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে পেতে পারে সেজন্যই আইনগত সহায়তা বা লিগ্যাল এইড।
তিনি বলেন, সকল ধারণা ভেঙে প্রকৃত আইনি সহায়তার হাত শক্তিশালি হয়েছে। আপনার আমার সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব এবং সে লক্ষেই প্রচেষ্টা চলছে। দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে হলেও অবশ্যই সকলের উচিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সহায়তা করা। আর এক্ষেত্রে শুধু তথ্য প্রদানের মাধ্যমেই একজন মানুষ বা একটি পরিবারের মুসকিল আসান হতে পারে। তৃনমূলে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত আইনগত সহায়তা কমিটির মাধ্যমে সক্রিয় কার্যক্রম চলছে। অসহায় ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থী বাদী-বিবাদী উভয়ই এ কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাচ্ছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধ হলে শুধু মামলা নয়, লিগ্যাল এইড অফিসে আপসও হয়’। যদি কোনও ব্যক্তি তার মামলাগুলো আপস মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে চান, তাহলে তিনি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে শরণাপন্ন হতে পারেন। সেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বিরোধ বা মামলা নিষ্পত্তির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন দায়িত্বে থাকা বিচারক।’

