মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরাতে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও বিসিআইসি’র স্থানীয় সার ডিলার এবং সাব ডিলারদের কারসাজিতে ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকরা ন্যায্য মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরকার কৃষক পর্যায়ে সারের খুচরা মূল্য ৫০ কেজির বস্তা প্রতি ৮শ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে ডিলাররা কৃষকদের কাছে ৯শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সার বিপননের জন্য এ বছর মাগুরায় বিসিআইসি ৩৯ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৪ জন, শ্রীপুর উপজেলায় ৯ জন এবং শালিখা এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ৮ জন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও জেলার ১টি পৌরসভা এবং ৩৬টি ইউনিয়নের জন্য ৯ জন করে সাব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের প্রত্যেকের ঘরেই পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বর্তমান আমন মৌসুমের এই সময়টিতে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় অসাধু ওইসব ব্যবসায়ীরা কৃষকদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দারুন অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাগুরায় সারের কোন সংকট নেই। তবে মনিটরিংয়ের দূর্বলতার কারণে জেলায় অনুমোদনবিহীন অনেক ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে।
মাগুরা জেলায় ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, মাগুরায় ২২ সদস্য বিশিষ্ট একটি সার মনিটরিং কমিটি রয়েছে। যারা নিয়মিত বিষয়টি তদারকি করছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকটের খবর পেয়ে মাগুরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন তাদের মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় জেলার চার উপজেলা সদর ও বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কয়েকজন সার ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।


