মাগুরানিউজ.কমঃ
রাজীব মিত্র –
নবগঙ্গা নদীকে বলা হয়ে থাকে প্রাচীন মাগুরার প্রাণ। এ নদীকে কেন্দ্র করেই মাগুরার কলেবর বৃদ্ধি। নবগঙ্গার কারণেই মাগুরা শহর তুলনামূলকভাবে আবর্জনা ও দূষিত পানি থেকে মুক্ত। নবগঙ্গা নদী যদি মাগুরা শহরের ময়লা আবর্জনা না গ্রহণ করত তবে আজকের এ শহর হয়তো বসবাসের মতো এমন উপযোগী থাকত না।
সারা বছর মাগুরা শহরের বর্জ্য পানি শোষণ করে নিয়ে নিজেই হয়ে পড়েছে ক্লান্ত। তবে বর্ষাকাল এলে নবগঙ্গা তার পূর্ব রুপ অর্থাৎ পরিপূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। বর্ষাকাল এলেই নদীটি ফিরে পায় প্রাণ। পরিষ্কার পানিতে থইথই করে নদী।
চলছে বর্ষাকাল। সাধারণ নদীর মতো নবগঙ্গাও ফিরে পেয়েছে তার যৌবন। পানিও ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে। নবগঙ্গা পাড়ের নিম্ন আয়ের বেশিরভাগ মানুষ নদীর পানিতেই গোসল করছেন।
বর্ষাকাল এলেই নবগঙ্গার সারা বছরের চিরচেনা রূপও পাল্টে যায়। শুক্রবার বিকেলে নবনির্মিত পারনান্দুয়ালী সেতু থেকে দেখা যায়, নদীর পাড়ে বসে মানুষ আড্ডা দিচ্ছেন। সবাই যেন মুগ্ধ চোখে নবগঙ্গার পূর্ণ যৌবন অবলোকন করছেন।নদীর পরিষ্কার টলমলে পানির সঙ্গে কচুরিপানা ঢেউয়ের তালে তালে খেলা করছে।
নবগঙ্গার পানিতে হাত মুখ ধোয়ার সময় কথা হয় এক সলেমান নামে এক বৃদ্ধর সঙ্গে। তিনি মাগুরা নিউজকে বলেন, আরে বাপু আমরা তো গ্রামের মানুষ। নদীর পানিতে গোসল না করলে সাধ মেটে না। সাঁতার কাটতে ভালোলাগে। তবে মাগুরা শহরে যখন ত্রিশ চল্লিশ বছর আগে এসেছি তখন তো সাঁতার কাটতাম। কিন্তু বর্ষাকাল ছাড়া এ নদীতে এখন পা রাখার জো নেই।
নবগঙ্গার পাশে বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তি মাগুরা নিউজকে বলেন, নবগঙ্গার কথা ভাবলে খারাপ লাগে। ছোটবেলায় এ নদীতে কত সাঁতার কেটেছি।গরমের সময় তো সাঁতার কেটেই দিন গেছে। আর এখন গরমকালে নবগঙ্গার ময়লা আবর্জনার জন্য আশপাশের লোকজনের থাকা দায় হয়ে পড়েছে। তবে বর্ষাকাল এলেই নদীটি ফিরে পায় হারানো যৌবন।
Like this:
Like Loading...