মাগুরানিউজ.কমঃ
মানবতা ও জাতীয় জাগরণের কবি মাগুরার ফররুখ আহমদের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী আজ। কবির জন্ম বার্ষিকীতে মাগুরা নিউজের শ্রদ্ধাঞ্জলী।
১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার মধুমতি নদী তীরের মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফররুখ আহমদ। ‘মানবতা হোক নির্যাতিতের মাথার তাজ’ এই আকুলতা আজীবন ধ্বনিত হয়েছে কবিকণ্ঠে।
নির্লোভ, নির্মোহ, নির্ভয় ও নিঃশঙ্ক চিত্তের এ মানুষটি বাংলা ভাষা ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে লিখেছেন অবিরত। তার কবিতায় উঠে এসেছে মুক্তিকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং আশা জাগিয়েছেন সুপ্তিমগ্ন জাতিকে। শুনিয়েছেন নতুন দিনের নব আনন্দের নব চেতনার ও নব জাগরণের গান।
খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী ও রওশন আখতারের দ্বিতীয় পুত্র ফররুখ আহমদের স্কুলজীবন অতিবাহিত হয় কলকাতার বালিগঞ্জ হাইস্কুলে।
১৯৩৭ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৩৯ সালে কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতা স্কটিশ চার্চ কলেজে ১৯৩৯ সালে দর্শন বিষয়ে এবং পরবর্তীতে ১৯৪১ সালে কলকাতা সিটি কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন। নানা কারণে প্রথাগত শিক্ষাটা শেষ করেননি তিনি।
১৯৪৩ সালে আইজি প্রিজন অফিস ও ১৯৪৪ সালে সিভিল সাপ্লাই অফিসে কিছু দিন চাকরি করেন। এরপর যুক্ত থেকেছেন মাসিক মোহাম্মদী সম্পাদনায় এবং সাহিত্যচর্চা নিয়েই জীবনের বৃহত্তর সময় কাটিয়েছেন তিনি। তিনি রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা ও বাংলাদেশ বেতারের নিজস্ব শিল্পী ছিলেন।
ফররুখ আহমদের কাব্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, স্বদেশ, সমকাল ফুটে উঠেছে সার্থকভাবে। অফুরান সৌন্দর্য, উদাস কল্পনা, রূঢ় বাস্তবতা, প্রদীপিত আদর্শ, সমুদ্রবিহার, রোমান্টিকতা, প্রেম প্রভৃতি তার কবিতার এক মৌলিক চরিত্র নির্মাণ করেছে।
গানের ভুবনেও তার পদচারণা ছিল। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে শিল্পী ও গীতিকার হিসেবে তার ছিল ব্যাপক খ্যাতি। শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ সাহিত্যেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
কবি বাহান্নর ভাষা আন্দোলনসহ প্রতিটি পর্বেই যুক্ত ছিলেন প্রত্যক্ষভাবে। জীবদ্দশায় পেয়েছেন প্রাইড অব পারফরমেন্স প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, ইউনেস্কো পুরস্কার প্রভৃতি। মরণোত্তর ভূষিত হয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে।


