মাগুরানিউজ.কমঃ
ভুয়া চিকিৎসকদের ঠেকাতে বিশেষ তৎপর হয়েছে মাগুরার স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা। নির্দেশ দেয়া হয়েছে এখন থেকে জেলার সব বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসকদের বিএমডিসির নিবন্ধনসহ অন্যান্য কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
গত ১৭ এপ্রিল মাগুরায় মুহাম্মদ খোরশেদ আলম নামের এক ভুয়া চিকিৎসক ধরা পড়েন। খোরশেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পরিচয় দিয়ে মাগুরা সদর হাসপাতালের পাশের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁর এক বছরের কারাদণ্ড হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মূলত ওই ঘটনার পরই মাগুরা স্বাস্থ্য বিভাগের টনক নড়ে। ভুয়া চিকিৎসক ঠেকাতে তারা নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাগুরা সিভিল সার্জনের দপ্তরের চিকিৎসা কর্মকর্তা বি এম রেজাউল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ভুয়া ওই চিকিৎসক ধরা পড়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে জেলার সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সতর্ক করা হয়। এ ছাড়া গত ২৬ এপ্রিল সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকে মাগুরার বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্যক্তিগত চেম্বারের সব চিকিৎসক ও মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সেবা প্রদানকারী সব চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের চিকিৎসকের সম্মতিপত্র, এমবিবিএস সনদের ফটোকপি, বিএমডিসি নিবন্ধনের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও চিকিৎসকের ছবি সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে এসব কাগজপত্র সিভিল সার্জনের দপ্তরে পাঠাতে হবে। এরপরও চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয়, বিএমডিসির নিবন্ধনবহির্ভূত ডিগ্রি ব্যবহার ও মিথ্যা পদবি ব্যবহারের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানকে দায়ভার নিতে হবে।
মাগুরার সিভিল সার্জন মুন্সী মো. ছাদুল্লাহ গণমাধ্যমে বলেন, ভুয়া চিকিৎসক ধরা পড়ার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এটা ভয়ংকর অপরাধ। আমরা ওই ঘটনার পর ভুয়া চিকিৎসককে কীভাবে প্রতিরোধ করা বা আটকানো যায়, তার পথ খুঁজছি। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ওই চিঠি দিয়েছি।
এই চিঠির অনুলিপি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।
বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোও এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেছে।


