মাগুরানিউজ.কমঃ

রাজীব মিত্র জয় –
আবারো বৈচিত্রময় আশাব্যাঞ্জক জীবনমুখী রায় এক রায় দিয়ে আলোচনায় মাগুরার বিচার বিভাগ। মাদক মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয় তরুনকে কারাগারের অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দুরে রেখে সংশোধন হওয়ার পথ করে দিয়ে সমাজে ও রাষ্ট্রে একজন সুনাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুযোগ দিয়েছেন। ওই নয় তরুনকে বইপড়া, গাছ লাগানোসহ সদাচরণের জন্য সহায়ক বিশেষ কিছু কর্মে সংশ্লিষ্ট থাকার শর্তে প্রবেশন মঞ্জুর করেন আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে মাগুরা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মোঃ মোস্তফা পারভেজ এ আদেশ দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মাগুরা শহরের নতুন বাজার এলাকার অমি, অনিক সরকার, সৌরভ ঘোষ এবং সদর উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের মিলন, সোহেল, উজির বিশ্বাস, তুহিন, রাশেদ ও সুজন বিশ্বাস।
প্রবেশনকালীন সময়ে বিচারক যে শর্ত দিয়েছেন সেগুলো হলো- প্রবেশনকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত আসামি কোনরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবেন না বা একই ধরণের অপরাধ আর করবেন না, শান্তি বজায় রাখবেন এবং ভাল ব্যবহার করবেন, আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন, কোনরূপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না, কোন খারাপ সঙ্গীর সঙ্গে আর মিশবেন না, প্রবেশনকালীন সময়ে আসামীরা মুক্তিযুদ্ধের চারটি বই আনিসুল হকের মা, মুহাম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি ও শাহরিয়ার কবিরের একাত্তরের যিশু পড়তে হবে, দুটি সিনেমা হাঙ্গর নদী গ্রেনেড ও ওরা ১১ জন দেখবেন। প্রবেশনকালীন সময় আসামি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসাবে ২টি বনজ ও ৩টি ফলজ গাছ লাগাবেন।
কোন শর্ত ভঙ্গ করলে বা তার আচরণ সন্তোষজনক না হলে তার প্রবেশন আদেশ বাতিল করা হবে এবং অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডাদেশ ৩ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর মাগুরা পৌর এলাকার বাটিকাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে বাঁশবাগানে গাঁজা বিক্রির সময় পুলিশ এ নয় জনকে আটক করেছিল। এদের সবার বয়স ২০ বছরের মধ্যে।
অভিনব হলেও এমন রায় আইনসম্মত, বলছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, এমন রায়ের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কারাগারে গিয়ে অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থেকে নিজ বাড়িতে আদালতের দেওয়া শর্ত মেনে নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারবেন।
এ রায়টিকে জীবনমুখী রায় বলে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্টজনেরা। আদালত কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলখানার অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচিয়েছেন। জীবনের স্রোতে ফিরে যেতে সহযোগীতা করেছেন।
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্যরা এ রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাগুরা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক মোঃ মোস্তফা পারভেজ এ রায়ের মধ্যদিয়ে শুধু প্রবেশন সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেননি, তিনি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জেলখানার অপরাধীদের সংস্পর্শ থেকে বাঁচিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) মাগুরার মূখ্য বিচারিক আদালতের হাকিম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট সহিংসতার একটি মামলার রায়ে ইব্রাহিম হোসেন (২০) নামে এক যুবককে সদাচরণের জন্য সহায়ক অনুরুপ রায় দিয়েছেন।
২০১৮ সালে বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ১২ আসামিকে কারাগারের বদলে বাড়িতে থেকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ দেন রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা –
প্রয়োগের নজির তেমন না থাকলেও প্রবেশন অর্ডিন্যান্স আগে থেকেই আছে। সুপ্রিম কোর্টের জে-০১/২০১৯ নম্বর সার্কুলারে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণ করেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনটি কার্যকর করতে সারাদেশের বিচারকদের নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেন।
লেখক- আইনজীবী, সম্পাদক, মাগুরা নিউজ।

