মাগুরানিউজ.কম:
উভয়সংকটে কষ্টে আছে মাগুরার মধুমতির জেলেরা। এ নদীই তাদের সংসার চালনার একমাত্র মাধ্যম।দুইএকটা ইলিশ আর রুই, কাতলা, বোয়াল, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছ ধরে দিন কাটতো তাদের। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের ১ তারিখ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত সরকার ঘোষিত ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ফলে তাদের বেশিরভাগই এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। ইলিশ মাছ ধরা বন্ধের নিষেধাজ্ঞায় তাদের অন্যান্য মাছ ধরাও বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে এ এলাকাটিকে ইলিশ জোন হিসেবে ঘোষণা না করায় কোনপ্রকার সরকারী সহায়তাও পাচ্ছেন না মধুমতির মৎস্যজীবিরা। ফলে এ নদীর উপর নির্ভরশীল প্রায় ৩’শতাধিক পরিবার এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান- মধুমতি নদীতে ইলিশ মাছের কারনে পুরোপুরি মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন জাল নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেই প্রশাসনের লোকজন জাল পুড়িয়ে দেয় ও তাদের আটক করে। ফলে তারা এখন বেকার। এ অবস্থায় তাদের সংসার চালানো দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানে এ সময়টিতে মৎস্যজীবিদের সরকারী বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হয়। কিন্তু মহম্মদপুরের মধুমতি নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধের জন্য প্রশাসনের একের পর এক অভিযান থাকলেও সরকারি কোন ভর্তুকি কিংবা প্রণোদনা তারা পাচ্ছেন না। ফলে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা সরকারী সহযোগিতার দাবী জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মহম্মদপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন গণমাধ্যমে জানান- মহম্মদপুরে মোট ১২শ ৭জন মৎস্যজীবি নিবন্ধিত হয়েছে। যার মধ্যে নদীকেন্দ্রীক মৎস্যজীবি রয়েছেন ৩ শতাধিক। তবে এ এলাকার মৎস্যজীবিরা কোন প্রনোদনা পান না। মা ইলিশ সংরক্ষণের এ সময়টিতে এ এলাকাটিকে ইলিশ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হলে এলাকার মৎস্যজীবিরা উপকৃত হবে। আগামী বছর থেকে এ এলাকাটিকে ইলিশ জোন হিসেবে ঘোষণার জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবো।


