মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের মীর আরজ আলী (৩৫) কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে আরজ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগম। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ছয় বছর পূর্বে শ্রীপুরের রায়নগর গ্রামের মৃত আতর আলী মীরের ছেলে আরজ আলীর সঙ্গে পাশ্ববর্তী হাট দ্বাড়িয়াপুর গ্রামের রেজাউল শেখের মেয়ে রোজিনার বিয়ে হয়। তাদের দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে।
সম্প্রতি রোজিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গোপনে ঐ যুবক রোজিনার সঙ্গে দেখা করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছে। এক পর্যায়ে পাঁচ মাস আগে স্বামী আরজ আলীকে তালাক দিয়ে রোজিনা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। কিছুদিন পরেই আবার নতুন স্বামীর সঙ্গে বিরোধ হওয়ায় প্রাক্তন স্বামী আরজ আলীর কাছে ফিরে আসেন রোজিনা।
আরজ আলীর সংসারে ফিরে এসে রোজিনা আবার প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে নতুন করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই যুবক প্রায়ই স্বামীর অবর্তমানে রোজিনার ঘরে আসা-যাওয়া করত বলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন বলে ওসি জানান।
গত ২৩ জুলাই দিবাগত রাত্র অনুমানিক দশটার দিকে আরজ আলী প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বসত বাড়ির উত্তর পার্শ্বের রুমে শুতে যান।
পরের দিন সকালে আরজ আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে জানান তার স্ত্রী। আরজ আলীর স্ত্রীসহ কতিপয় স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে আরজ আলীর লাশ গড়াই নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খরব দেন। স্ত্রী রোজিনা খাতুন, স্বামীর লাশ সনাক্ত করেন।
লাশের সংবাদ পাওয়ার ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে মাগুরার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। লাশের মাথা ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে এটিকে হত্যাকান্ড বলে ধারনা করে পুলিশ। ময়না তদন্তের জন্য মাগুরা মর্গে পাঠানো হয় আরজ আলীর মৃতদেহ।
মাগুরার পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ জানান, নৃশংস এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য আরজ আলীর স্ত্রী রোজিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। জানা যায়, “পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যা কান্ড সংঘটিত হয়।” পরবর্তীতে রোজিনা বেগম বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছে রোজিনা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরজ আলী ঘুমিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির অদূরে গড়াই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


