মাগুরার সাথী’র লাশ ঢাকায় স্যুয়ারেজ লাইন থেকে উদ্ধার, লাসের দাবি করেছেন তিনজন

মাগুরানিউজ.কমঃ 

news_img

ঢাকার উত্তরার স্যুয়ারেজ লাইন থেকে উদ্ধার হওয়া এক লাশের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। আত্মীয় পরিচয় দিয়ে একই নারীর লাশ দাবি করেছেন তিনজন।

লাশটি উদ্ধারের তিন দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে রবিবার দুপুর পৌনে ৩টায় আসেন আনিসুর রহমান (২৫) নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান নিহতের নাম সাবিনা ওরফে সাথী। আনিসুর নিজেকে সাথীর ভাই দাবি করেন।

সাবিনা ওরফে সাথী মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামের রজব আলীর মেয়ে। তিনি তার স্বামী ফারুখ আলমের সঙ্গে সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেটের উল্টোপাশে সরকারি কোয়ার্টারে ভাড়া থাকতেন বলে আনিসুর পুলিশকে জানায়।

আনিসুর রহমান জানান, তিন বছর আগে সাবিনা ফারুখ আলমের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। মাগুরার দূরসম্পর্কের আত্মীয় ওলিয়ার ও তার শ্যালক আরিফ পল্লী বিদ্যুতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মে মাসে সাবিনার কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। চাকরির কথা বলে ১৬ জুন ওলিয়ার খিলক্ষেতে পল্লী বিদ্যুতের হেড অফিসে আসতে বলেন সাবিনাকে। রাত ৮টায় সাবিনা তার স্বামীকে ফোন করে জানান তিনি খিলক্ষেতে আছেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি জানান, পত্রিকায় নিউজ দেখে দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে এসে তার লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনার পর থেকে ওলিয়ার ও তার শ্যালক আরিফ পলাতক রয়েছেন। ওই ঘটনায় সাবিনার স্বামী জড়িত থাকতে পারে।

পুলিশ ওই নারীর লাশ আনিসুরকে বুঝিয়ে দিলে সে দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হন। সন্ধ্যার দিকে উত্তরা মডেল থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে আসেন আবু সাঈদ নামে অপর এক ব্যক্তি। তিনি নিহতকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দেন। কিছুক্ষণ পর আসেন হেলেনা নামে এক নারী। তিনি মৃত নারীর বোন বলে পুলিশকে জানান। লাশ হস্তান্তরের পরেও দুইজন দাবিদার আসায় পুলিশ ধামরাই এলাকা থেকে লাশ বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সকে ধামরাই এলাকা থেকে পুনরায় থানায় ফিরিয়ে আনে।

উত্তরা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর জানান, ওই নারীর লাশের কয়েকজন দাবিদার এসেছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ হস্তান্তর করব। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের ৬/এ নম্বর রোডের স্যুয়ারেজ লাইন থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকাল ৮টায় লাশের ময়নতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ওসি মো. আবু বকর জানান, ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্যুয়ারেজ লাইনে ফেলে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কয়েক দিন আগেই হত্যা করা হয়। এ কারণে লাশে পচন ধরে। বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় লাশটি ভেসে ওঠে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
%d bloggers like this: