মাগুরানিউজ.কমঃ
নব্য শিল্পাঞ্চল খ্যাত মাগুরার শতখালী এখন হুমকির মুখে। যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা ইটভাটার কারণে পরিবেশ বিপর্যয় হতে চলেছে নব্য শিল্পাঞ্চল খ্যাত মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়ন। সীমিত দূরত্বে এই ইউনিয়নের মধ্যে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ৫/৬টি পরিবেশ ক্ষতিকর ইটভাটা।
ভাটাগুলোর মধ্যে রয়েছে, চিত্রা ব্রিকস, নাসিম ব্রিকস, মোল্যা ব্রিকস, পিয়াল ব্রিকস, শাহীদরবার ব্রিকস, মামুন ব্রিকস, তানিয়া ব্রিকস প্রমুখ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বেশির ভাগ ভাটার মালিক বিভিন্ন মহলে দেন দরবার করে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব এলাকার কৃষকরা জানান, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলা বালি তাদের ফসলি জমিতে এসে পড়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোকালয় দূষিত হয়ে নানা ধরনের রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে।
অপরিকল্পিতভাবে এসব ইটভাটা গড়ে তোলায় বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা এসে এখানে ভিড় জমাচ্ছে। যার ফলে এলাকায় অনৈতিক অপকর্ম দিন দিন বেড়ে চলেছে। অনেকেই মনে করেন এসব কারণে এলাকায় চুরি,ডাকাতি, ধর্ষণসহ খুনের সংখ্যাও বেড়েছে ব্যাপক হারে।
সরেজমিন ঘুরে যে চিত্র চোখে পড়ে, তা খুবই দুঃখজনক। গত ৫ বছরে এসব ইটভাটার কারণে পরিবেশে বিরুপ প্রভাবে শতখালী ইউনিয়নে অনেক মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে চারপাশের অসহায় মানুষ। এসব রোগের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, কাশি, যক্ষাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ।
আইন অনুযায়ী জিগজ্যাক ও হাওয়া ভাটা করার নিয়ম থাকলেও এর মধ্যে কয়েকটি ভাটার মালিক আইনের তোয়াক্কা না করে একদিকে দেদারছে পোড়াচ্ছে কাঠ, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব চিমনি ছাড়াই চলছে ভাটাগুলো। ১২ বছরের নিচে কোন শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো নিষিদ্ধ থাকলেও ৭/৮ বছরের শিশু শ্রমিক দিয়েই এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হয়।
খোজ নিয়ে দেখা গেছে, এসব ভাটার মালিকরা যশোর ও সাতক্ষীরা এলাকা থেকে বেশির ভাগ শ্রমিক এনে ভাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব শ্রমিকদের বসতি হিসাবে উপজেলার বাহিরমল্লিকা এলাকার ওয়াপদার খাল পাড়ের দুই পাশের সরকারি জায়গায় অবৈধ ভাবে দখল করে ঘর বাড়ি তুলছে। ফলে খাল পাড়ের মাটি কেটে নিচেই ভরাট করা হচ্ছে। অন্যদিকে খালের ভেতর মাটি ভরাট করে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।


