মাগুরানিউজ.কমঃ
২১শে ফেব্রুয়ারি। পেঁপের ডাল সংগ্রহ করে তৈরি হয়েছে শহীদ মিনার। কাগজে লাল সবুজের রং এ জাতীয় পতাকা এঁকে শহীদ মিনারে দিয়েছে। কারো কথায় নয়, নিজেদের উদ্যাগে এবারও তারা তাদের তৈরি করা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে টিনা, হাবিবা ও জলি।
শালিখা উপজেলার সিংড়ার দক্ষিণ পাড়ায় তাদের বাড়ির রাস্তার পাশে উঠানে এভাবেই শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় তারা।
গ্রামে কোনো শহীদ মিনার না থাকায় স্থানীয় এই তিনজন নিজেদের উদ্যোগেই শহীদ মিনার বানিয়ে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে।
টিনা, হাবিবা ও জলি জানায়, আশে পাশে শহীদ মিনার নেই। শহরে যেতে পারিনা, স্কুলও ছুটি। তাই শহীদ মিনারে যেতে পারি না তাই নিজেরাই শহীদ মিনার তৈরি করে ফুল দেই। বইয়ে পড়েছি, টিভিতে দেখেছি এভাবেই ফুল দেয়। আর প্রতি বছর ২১ তারিখে শহীদ মিনার বানাই। পাড়ার বিভিন্ন বাড়ি থেকে ফুল নিয়ে এসে শহীদ মিনারে ফুল দেই।
তাদের সঙ্গের কথা বলে জানা যায়, তারা স্থানীয় প্রাইমারি ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪র্থ, ৫ম ও ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। তারা জানান, আমাদের গ্রামে যদি শহীদ মিনার থাকতো তাহলের আমরা সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারতাম।
তাদের এই উদ্যোগ হয়তোবা আগামীতে তাদের ছোট ভাই-বোন দেখে উদ্ধুদ্ধ হবে। পরবর্তীতে তারাও এভাবেই শ্রদ্ধা জানাবে ভাষা শহীদদের। হয়তোবা একদিন তাদের গ্রামে ২১শে ফেব্রুয়ারির ভোরে গ্রামবাসীর কণ্ঠে গেয়ে যাবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি……’। আর শহীদ মিনার ভরে যাবে ফুলে ফুলে।
এ ব্যাপারে মাগুরার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম সিরাজুদ্দৌহা জানান- মাগুরায় ৫শ ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দ সাপেক্ষে শহীদ মিনার তৈরীর ব্যাপারে চেষ্টা চলছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান স্থানীয়দের সহায়তায় শহীদ মিনার তৈরী করেছেন। তবে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরীর জন্য কাজ চলছে।
একুশ আমাদের গর্ব। একুশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বিশ্বব্যাপী আমরা অনেক বেশী সমাদৃত। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় উদ্দীপ্ত করতে পারলে এ অর্জন সার্থকতা লাভ করবে।


