মাগুরানিউজ.কম:
শুক্রবার রাস্তার সব আলো জ্বলে উঠতেই দেখা গেল নিমেষের মধ্যে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে জামরুলতলা পূজা মণ্ডপের সামনে। রাস্তার ধারে ছড়িয়েছিটিয়ে বসে থাকা পুজোর স্বেচ্ছাসেবকেরা আড়মোড়া ভেঙে উঠলেন। কেউ কপালে বেঁধে নিলেন ফেট্টি। কেউ মাথায় চাপিয়ে নিলে টুপি। যাঁদের জন্য এত আয়োজন, সেই দর্শনার্থীরা এসে গিয়েছেন। রাস্তার মোড়ে ভ্যানের মধ্যে বসে থাকা পুলিশ কর্মীরা এতক্ষণ একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। এ বার তাঁরাও নবমীর রাতের যুদ্ধের জন্য নেমে পড়লেন।
নবমীর সকাল থেকে জমাট ভি়ড়টা কোথাও তেমন ছিল না। যানবাহন তাই চলছিল নির্বিঘ্নে। আসলে মাগুরা শহর অপেক্ষা করছিল রাতের অতিথিদের জন্য। বিকেল গড়াতেই পুরো পরিস্থিতিটাই বদলে গেল। গাড়িতে বসা এক কর্মীর মন্তব্য, ‘‘সারা রাত ধরেই এ বার এ রকম চলবে। আমাদের খাওয়ার ফুরসতটুকুও মিলবে না আর।’’
সন্ধ্যা সাতটায় নতুন বাজার এলাকায় বাঁশির শব্দে কান পাতা দায়। বাঁশি বিক্রেতার মুখে একগাল হাসি, ‘‘বৃহস্পতিবার ২০০ বাঁশি বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু আজ সন্ধ্যা পড়তে না পড়তেই গোটা ৫০ বিক্রি হয়ে গেল ঘণ্টা খানেকের মধ্যে। বেশি মাল নিয়ে এসেছি। সব বিক্রি না হলে বিপদ।’’
বটতলার পুজোয় ভিড় উপচে পড়াটা যেন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা হতেই লাইন দীর্ঘ হয়েছে সেখানে। এক প্রবীণ পুজোকর্তা মণ্ডপে পাশে বসে বললেন, “মানুষের ঢলটাই আমাদের পুরস্কার।“
জনস্রোত আছড়ে পড়ছে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে। ভিড় সামলাতে রীতিমতো নাকাল হচ্ছে পুলিশ।


