মাগুরানিউজ.কম:
বাল্যবিবাহ থেকে সহপাঠিকে বাচাঁতে মাগুরা নিউজের সহযোগিতা চাইলো একদল স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তারা বন্ধ করতে চায় বন্ধুর বাল্যবিবাহ। তাদের ভাষায়, ‘মাগুরা নিউজকে বিষয়টি জানালেই বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে এটা মনে করেই আমরা মাগুরা নিউজের সহযোগিতা চেয়েছি, কারন আমরা পূর্বে এমনটা হতে দেখেছি। জেলা প্রশাসন এবার নিশ্চয় আমাদের বন্ধুর বাল্যবিবাহ বন্ধ করবে।’
মাগুরার ইছাখাদা হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী, ছোট্ট শিক্ষার্থী নাসরিন (১৩), স্বপ্ন তার একদিন অনেক বড় হবে। পড়াশোনা করে দেশের মুখ উজ্বল করবে। কিন্তু হটাৎ করেই ভেঙ্গে যাচ্ছে তার স্বপ্ন। পরিবারের চাপে এক বিপত্নিক লোকের সাথে তাকে বসতে হচ্ছে বিয়ের পিড়িতে। গতকাল শনিবার শেষ করা হয়েছে বিয়ের সব আয়োজন। আজকালের মধ্যেই ১৩ বছরের নাসরিন বসবে বিয়ের পিড়িতে।
নাসরিনের এবার S.S.C পরীক্ষা দেওয়ার কথা। কিন্তু বাড়ির লোকের চাপে পরে মেয়েটির পড়ালেখা এখানেই শেষ হতে চলেছে। যে মেয়েটির ইচ্ছা ছিলো সে একদিন অনেক পড়াশোনা করে দেশের মুখ উজ্বল করবে। হটাৎই ভেঙ্গে যাচ্ছে তার স্বপ্ন।
বাল্য বিয়ের ঘটনাটি ঘটতে যাচ্ছে মাগুরা সদর উপজেলার কাশিনাথপুর গ্রামের কারিকর পাড়ায়। ওই ছাত্রী কারিকর পাড়ার সাহেদ আলীর মেয়ে ও ইছাখাদা হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী।মায়ের নাম সাহানারা বেগম। মেয়েটির বাবা ইছাখাদা বাজারে শাহীন স্টোর নামে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন।
মেয়েটি ও তার সহপাঠিরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, তারা মাগুরানিউজের মাধ্যমে মাগুরা জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছে। আবেদন জানাচ্ছে তাদের সহপাঠির এই বিয়ে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে এটি বাল্য বিবাহ এবং এর প্রতিকার হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।
এলাকাবাসী জানান, তারা শুনেছেন ছেলেটির অনেক টাকা পয়সা আছে বলে মেয়ের বাড়ির লোক এই রকম একটা জঘন্য কাজ করতে চলেছে। মেয়েটির মা তাকে বলেছে তুই যদি বিয়েতে রাজি না হোস তবে আমার মরা মুখ দেখবি এমনটা তারা শুনেছেন। মেয়েটির অশ্রু এলাকাবাসীর বিবেককেও নাড়া দিয়েছে।
‘মাগুরানিউজ’ প্রত্যাশা করে শিক্ষার্থীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে কতৃপক্ষ এই বাল্যবিবাহ রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।


