মাগুরানিউজ.কম:
ভরা শ্রাবণে মধ্যবিত্ত বাঙালির পাতে ইলিশ নেই। বাজারে ইলিশ রয়েছে। কিন্তু আগুন দামে পকেট পোড়ানোর ক্ষমতা ক’জনেরই বা আছে! ইলিশ কেনার স্বপ্ন ভুলে যাঁরা থলে হাতে রকমারি চারা মাছের খোঁজে বাজারে যাচ্ছেন, তাঁদের দরের ধাক্কায় কম্পমান অবস্থা। অগত্যা আতিপাতি খুঁজে কেউ কয়েক টুকরো কাটা পোনায় থলি ভরছেন। কেউ হিসেব কষে ওজন দেখে ট্যাঙরা, মাগুর কিনছেন। কেউ কেউ ইলিশের স্বাদ মেটাচ্ছেন খোকা ইলিশে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যাই ভিলেন। পুকুর, খাল-বিলের মাছ ভেসে গিয়েছে। বাজারে মাছের জোগান কম। চারা পোনা ও রকমারি ছোট মাছের পাইকারি দর তাই চড়ছে। যার ফলে, বাজারেও মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী। আর জোগানের অভাবে বড় ইলিশ তো সাধারণের নাগালের বাইরে।
মাগুরা শহরের অনুপম বিশ্বাসের আক্ষেপ, “অন্যান্য বার দাম নাগালে থাকায় ভরা শ্রাবণে বেশ কয়েক বার ইলিশ খেয়েছি। এবার ইলিশের ধারে কাছে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চারা পোনার দামও বেশ চড়া। অন্য মাছ যে খাব, সে সবের দামও তো দিনে দিনে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”
মাগুরা পুরাতন বাজারে নিয়মিত মাছের খদ্দের তাপস দত্ত বললেন, “ইলিশের বদলে ছোট মাছ কিনতে গিয়েও তো পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।” একই রকম অবস্থা মাগুরার অন্য বাজারগুলিতেও।
একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী সুমন মিয়া বলেন, “মাছের বাজারে ভিরমি খেতে হচ্ছে। বেশির ভাগ দিন ডিম খাচ্ছি।” মাগুরার একটি হাইস্কুলের শিক্ষক মতিয়ার রহমানের কথায়, “এখন যা অবস্থা, মাছের চড়া দামের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কম। কিন্তু পাতে মাছ না থাকলে দিনটাই তো বিস্বাদ!”
মৎস্যপ্রিয় বাঙালিকে মাছে-ভাতে রাখবে কে? জবাব জানতে চান মাগুরাবাসী।


