মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরা শহরে এখন প্রায়শই দেখা পাওয়া যাচ্ছে দলছুট হনুমানটির। কখনো কারো বাড়ির ছাদে, কখনো বা গাছের আড়ালে। দৃষ্টি খাবার খোঁজে। কোথা থেকে এলো সে? অনেকে বলেন ভারত থেকে আসতে পারে! কেউ বা সার্কাস থেকে পালিয়ে এসেছে বলে ধারনা দেন। তবে যেখান থেকেই আসুক, খাদ্য সংকটে সে প্রায়শই বিভি্ন দোকানে হামলা করে কেক, বিস্কুট এর জন্য। তাই জনরোষের শিকার হয়।
বিলুপ্ত প্রায় এই প্রাণীটি নিজেও বিপদে আছে। শহুরে সমাজে খাবার যোগার করা তার পক্ষে কঠিন বিধায় ভয়ে পালিয়ে থাকে। তাকে রক্ষা করার মত মাগুরাতে কোন প্রতিষ্ঠানও নেই।
বন্য প্রানীটিকে বনে অথবা চিড়িয়াখানায় দেয়া না হলে কোনদিন হয়তো রুটি চুরি করার অপরাধে জীবন হারাতে হবে তাকে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন মাগুরার সচেতন মানুষেরা।
দেশে প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে আন্দোলনকে জোরাল করে তোলার আহবান জানিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী মাগুরার বিশিষ্ট সাংবাদিক ‘মাগুরানিউজ’ সম্পাদক রাজীব মিত্র জয় বলেন, ‘বন্যপ্রাণির বিরুদ্ধে সারাদেশেই যে আগ্রাসন চলছে তা প্রকৃতিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাতছানি দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে যে পরিবেশগত সংকট দেখা দেবে তা এ ভূখন্ডের বাসযোগ্যতাকেই চ্যালেঞ্জ করবে।’
‘বিদ্যমান বন্যপ্রাণি আইনের যথাযথ প্রয়োগের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠির সচেতনতাই এসব বন্যপ্রাণি রক্ষা পাবে’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণিবৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের সচেতন মনোভাবের অভাব প্রকট। বন্যপ্রাণির জন্য আমাদের মমতা আরো বাড়াতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে।’
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ প্রকৃতিপ্রেমী বলেন, ‘আমি আশা করবো যেখানেই বন্যপ্রাণির ওপর আক্রমণ হবে-তরুণরা সেখানে প্রতিহত করবে, সবাইকে সচেতন করবে। সবার কাছে তারা বার্তাটি পৌঁছে দেবে-আমরা যে সুন্দর প্রকৃতিতে বেঁচে আছি-তাতে বন্যপ্রাণিরও অবদান আছে। সুস্থ-স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকার আছে তাদেরও।’


