মাগুরা ঢাকারোড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর নির্মিত রেগুলেটর (পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাষায় ‘ওয়ার’) এ ফাটল দেখা দেয়ায় ঢাকা খুলনা মহাসড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুকি দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষনে উজানের পানির চাপে মহাসড়কের উপর নির্মিত মাগুরা ঢাকারোড সংলগ্ন একটি রেগুলেটরের উইং ওয়ালে বিরাট ফাটল দেখা দিয়েছে।
উজানের পানির চাপ কমাতে সম্প্রতি রেগুলেটরটির কপাট খুলে দেয়ায় প্রবল পানির স্রোত দেখা দেয়। স্রোতের পানির চাপে ফাটলটি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়লে ঢাকা-খুলনা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। অথচ এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছেনা।
মাগুরা জেলার কুমার ও নবগঙ্গা নদীর উজানে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ধরে রাখতে মাগুরা শহর সংলগ্ন নবগঙ্গা নদীতে বাঁধ দেয়া হয়। এতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে উজানে নদী ভরে পানি ক্ষেত খামার জলমগ্ন হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ক্ষেতের ফসল। এ সময় উজান এলাকার জনগন এর থেকে রক্ষার জন্য বাঁধ কাটতে গেলে তৎকালীন পাক সরকারের পুলিশ বাহিনী জনগনের ওপর গুলি চালায়, এতে ৫ জন সাধারণ মানুষ প্রান হারায়।
পরবর্তীতে পানি নিয়ন্ত্রন করতে এ রেগুলেটারটি ইষ্ট পাকিস্থান গ্যামন নামে একটি বিদেশী ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের মাধ্যমে নির্মান করা হয়। কিন্তু এ রেগুলেটরের পানি নিষ্কাষনের ক্ষমতা কম থাকায় সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সরকার পরবর্তীতে ডাইভারশন ক্যানেল খনন করে পানি বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অথচ এখানে খাল খনন করে এলাকার শতশত মানুষের কয়েক হাজার একর জমি ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়।
এরপর মরহুম মজিদ-উল-হক বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত হলে তার প্রচেষ্টায় সমস্যা সমাধানে বাঁধস্থলে আরেকটি রেগুলেটর নির্মান করা হয়। পূর্বে নির্মিত রেগুলেটরটির যথেষ্ট গুরুত্ব থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার এটির সংস্কারে প্রচুর পরিমান অর্থ ব্যয় দেখালেও তেমন কোন উন্নয়ন করেনি। নাম মাত্র কাজ দেখিয়ে অর্থ অত্মসাৎ করে আসছে সেই প্রথম থেকে । ফলে অযত্ন অবহেলায় বর্তমানে এটির ভগ্নদশা।
এ ব্যাপারে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল লতিফ ‘মাগুরানিউজ’কে জানান, বিষয়টি তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিরা এখনো অবগত করেনি। বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।


