মাগুরানিউজ.কম:
জন্মের আগে মায়ের পেটে থাকতেই গুলিতে রক্তাক্ত হয়েছে এক কন্যা শিশু। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারের পর গুলিবিদ্ধ শিশুটি ভূমিষ্ট হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার বিকালে মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘটিত সংঘর্ষ ও বন্দুকযুদ্ধকালে এ ঘটনা ঘটে।
পেটে গুলিবিদ্ধ অন্তঃসত্ত্বা মায়ের নামে নাজমা খাতুন (৩০)। নাজমার ৬৫ বছর বয়সী চাচা বোমার আঘাতে ও মিরাজ শেখ নামে এক তরুণ চাপাতির কোপে আহত হয়েছেন। তিনজনকেই মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাত ৮টার দিকে নাজমার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে গুলি পাওয়া গেছে। গুলি তার তলপেটে ঢুকে মাংসপেশিতে গেঁথে যায়। আর নবজাতক মেয়েটির শরীরের কয়েক জায়গায় গুলির জখম আছে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ায় আট মাস বয়সী সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হন নাজমা খাতুন। হাসপাতালের চিকিৎসক শফিউর রহমান বলেন, আট মাসে সন্তান জন্মদান এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এখন দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দোয়ারপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ভুঁইয়া, অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেয় ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী আজিব্বর শেখ ও মুহম্মদ আলী।
সরকারদলীয় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাগুরা পুলিশের এএসপি সার্কেল সুদর্শন কুমার রায় জানান, এলোপাতাড়ি গোলাগুলিতে নাজমা খাতুন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
এদিকে মাগুরা সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান মুন্সী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।


